ক্যাম্পাস

সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিচারের দাবিতে জবি ছাত্রদলের ভিসি ভবন ঘেরাও

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ‎সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার বিচার, প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণের প্রতিবাদ ও প্রশাসনের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে ভিসি ভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে শাখা ছাত্রদল।

রবিবার (৮ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্ত চত্বর থেকে মিছিল শুরু হয়ে বিজ্ঞান ভবন ঘুরে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে অবস্থান নেয়। পরে ভিসি ভবনের ফটক অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

এ সময় ‘অথর্ব প্রশাসন মানি না মানবো না’, ‘দলকানা প্রশাসন মানি না মানবো না’, ‘সাংবাদিকদের ওপর হামলা কেনো, প্রশাসন জবাব দে’ স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠে ক্যাম্পাস।

বিক্ষোভ সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, “৫ আগস্টের পর থেকে আমরা কোনো সাংবাদিক সংগঠনের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করিনি। তবে, জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা গোপন রাজনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে এসব সংগঠন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গেছে।”

তিনি দাবি করেন সাংবাদিকদের একটি অংশকে বাইরে রেখে ‘পাতানো নির্বাচনের’ মাধ্যমে সমিতি দখল করা হয়েছে।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, “জামায়াত-শিবিরের প্রেসক্রিপশনে বর্তমান উপাচার্য সাংবাদিক সমিতির জন্য নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করেছেন, যেখানে শিক্ষক সমিতির সভাপতিকে উপদেষ্টা পরিষদ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।”

হিমেল বলেন, “পূর্ববর্তী কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তড়িঘড়ি করে নির্বাচন দেওয়া হয়, যাতে শিবির ও জামায়াতপন্থি সাংবাদিকদের নেতৃত্বে আনা যায়। আমরা ভিসি স্যারকে বলেছিলাম, সবাইকে নিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন দেওয়ার জন্য। কিন্তু, তিনি তা করেননি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ মার্চ জামায়াত-শিবিরের নেতৃত্বে সাংবাদিকদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা হয়।”

এই হামলার দায় পুরোপুরি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বর্তমান প্রশাসনের ওপর বর্তায়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

আবাসন ভাতার প্রসঙ্গ টেনে হিমেল বলেন, “জবিয়ানদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল আবাসন ভাতা। সেই দাবিতে তারা টানা তিন দিন যমুনার সামনে আন্দোলন করেন। আন্দোলনের ফল হিসেবে বিশেষ বৃত্তির ঘোষণা এলেও এক বছর পেরিয়ে গেলেও বর্তমান প্রশাসন তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।”

তিনি বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, হয় বিশেষ বৃত্তি দ্রুত প্রদান করতে হবে, না হলে প্রশাসনকে পদত্যাগ করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, “সাংবাদিকদের ওপর জামাত শিবিরের যে ন্যক্কারজনক হামলা হয়েছে তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এই হামলার পিছনে জামাতপন্থি ভিসির দায় আছে। এ হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত কমিটি করা হয়নি। এ হামলার দায় এবং শিক্ষার্থীদের বৃত্তি না দিতে পারায় এর দায় নিয়ে ভিসিকে পদত্যাগ করতে হবে।”

এ সময় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার, মো. মোস্তাফিজুর রহমান রুমি, রবিউল আউয়াল, মো.শাহরিয়ার হোসেন, মাহমুদুল হাসান, শাখাওয়াত হোসেন পরাগ, মিয়া রাসেলসহ ছাত্রদলের শতাধিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির সমর্থিত সংগঠনটির দুই গ্রুপের সংবাদকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গত বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবকাশ ভবনের তৃতীয় তলায় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে দুপক্ষের সংবাদকর্মীসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। এ ঘটনায় শিবির এবং ছাত্রদল পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ তুলেন। হামলার পরে সমিতির নির্বাচন স্থগিত করেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। রবিবার ঘটনার তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।