ক্যাম্পাস

‘ছাত্রলীগ’ সন্দেহে ঢাবি শিক্ষার্থীকে মারধর, ১০ জনের নামে থানায় মায়ের অভিযোগ

‘ছাত্রলীগ’ সন্দেহে মারধর ও ছিনতাইয়ের শিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী রাহিদ খান পাভেলের মা শাহবাগ থানায় অভিযোগ করেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) রাতে রাহিদের মা পারভীন আক্তার বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় লিখিতভাবে এ অভিযোগ জমা দিয়েছেন। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আরো ১০-১৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

শাহবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়ে জানান, পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।

ভুক্তভোগী রাহিদ খান পাভেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এবং মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। গতকাল সোমবার ভোররাতে তাকে মারধর করে শাহবাগ থানায় ফেলে রেখে যাওয়া হয়। রাহিদ অভিযোগ করেছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা তাকে মারধর করেছেন।

অভিযোগে মো. সাইফুল্লাহ (ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ, মুহসীন হল), হাসিব আল ইসলাম (সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, প্রস্তাবিত শহীদ ওসমান হাদী হল), সাঈদ আফ্রিদী (সংস্কৃত বিভাগ, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ, মুহসীন হল), রিয়াদ মাল (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ, সূর্যসেন হল), সর্দার নাদিম মোহাম্মদ শুভ (দর্শন বিভাগ, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ, সূর্যসেন হল), মো. সাকিব (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল), ফোরকান উদ্দীন মাহি (সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, প্রস্তাবিত শহীদ ওসমান হাদী হল), বায়েজিদ হাসান (দর্শন বিভাগ, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ, মুহসীন হল), হিমেল (স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগ, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ, সূর্যসেন হল), সজীব হোসেনের (ফলিত গণিত বিভাগ, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ, শহীদুল্লাহ হল) নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, রাহিদ গত সোমবার ভোর আনুমানিক ৩টার দিকে সেহরি খাওয়ার উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেল নিয়ে বাসা থেকে বের হন তিনি। পথিমধ্যে বুয়েট সংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে পৌঁছালে একদল যুবক তার পথরোধ করে। অভিযুক্ত সাইফুল্লাহ, হাসিব-আল-ইসলাম, সাঈদ আফ্রিদী, রিয়াদ মালসহ অন্যান্যরা দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও পাইপ নিয়ে রাহিদের ওপর চড়াও হন। হামলাকারীরা রাহিদের মাথায় আঘাত করতে চাইলে তিনি হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করেন, এতে তার ডান হাতের একটি আঙুল ভেঙে যায়। পরে পেছন থেকে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

মারধরের এক পর্যায়ে হামলাকারীরা রাহিদের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, নগদ ৫ হাজার টাকা, এটিএম কার্ড ও মোটরসাইকেলের চাবি ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আহত রাহিদ প্রাণভয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে ধাওয়া করে সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলের সামনে ফেলে পুনরায় মারধর করা হয়। পরবর্তীতে এক রিকশাচালক তাকে উদ্ধার করে শাহবাগ থানার সামনে নিয়ে এলে সেখানেও তাকে হেনস্তা করা হয় বলে দাবি করেছে তার পরিবার।

খবর পেয়ে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়।

শাহবাগ থানার ডিউটিরত অফিসার জানিয়েছেন, অভিযোগটি আমলে নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে রাহিদ ছাত্রলীগের কোনো কমিটিতে ছিলেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এছাড়া, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৪০৩ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। সেই তালিকায় রাহিদ খানের নাম পাওয়া যায়নি।