দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আয়োজিত কুরআনের জ্ঞানভিত্তিক মেগা রিয়েলিটি শো ‘কুরআনিক জিনিয়াস’-এর প্রথম আসরে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দুই মেধাবী শিক্ষার্থী। হাজারো প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবুল হুসাইন সারজিল। একই বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ ইহছান ভূঁইয়া হয়েছেন প্রথম রানার-আপ।
প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ও রানার-আপ যথাক্রমে ৩ লাখ ও ২ লাখ টাকা পুরস্কারের পাশাপাশি উমরাহ পালনের সুযোগ পেয়েছেন।
বিশিষ্ট ইসলামিক ব্যক্তিত্ব ও লেখক প্রফেসর মোখতার আহমেদের গ্রন্থনা ও উপস্থাপনায় এবং বিআরবি’র সৌজন্যে আয়োজিত এই মেগা রিয়েলিটি শোটি ছিল কুরআনিক কুইজ ও গবেষণাভিত্তিক আলোচনার এক অনন্য সমন্বয়। সারা দেশ থেকে অফলাইন ও অনলাইনে হাজারো প্রতিযোগী এতে অংশ নেন। প্রাথমিক পর্যায়ে এমসিকিউ, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার কঠিন ধাপ পেরিয়ে মাত্র ৩০ জন প্রতিযোগী টেলিভিশন রাউন্ডে জায়গা করে নেন। ছয়টি রাউন্ডের প্রতিযোগিতা শেষে সেরা ৫ জন ফাইনালিস্ট গ্র্যান্ড ফিনালেতে অংশগ্রহণ করেন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে চ্যাম্পিয়ন সারজিল বলেন, “কুরআনের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটানো ও পরিশ্রমের এক অপূর্ব প্রতিদান আজ পেয়েছি। টেলিভিশনের পর্দায় এটিই আমার প্রথম অভিজ্ঞতা ছিল। ধৈর্য, নিয়মানুবর্তিতা এবং আল্লাহর ওপর ভরসাই আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে।”
প্রথম রানার-আপ আব্দুল্লাহ ইহছান ভূঁইয়া বলেন, “প্রথম তিনজনের জন্য উমরাহর সুযোগ থাকবে, এটা জানার পর থেকেই মনেপ্রাণে দোয়া করেছি। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ তা কবুল করেছেন।”
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে সারজিল বলেন, “সফলতার জন্য ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের বিকল্প নেই। আল্লাহর রহমত থেকে কখনো নিরাশ হওয়া যাবে না। অন্যদিকে আব্দুল্লাহর পরামর্শ, কুরআন শুধু তিলাওয়াতের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর অর্থ ও তাফসিরসহ গভীরভাবে বুঝে অধ্যয়ন করা উচিত।”
সাফল্যের এই অর্জনের পরও দুই বিজয়ী বিনয়ী থাকছেন। তারা ভবিষ্যতে নিজেদের ‘কুরআনের খাদেম’ ও ‘দ্বীনের দায়ী’ হিসেবে গড়ে তুলতে চান। কুরআনের জ্ঞান মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই তাদের জীবনের প্রধান লক্ষ্য।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের প্রথম এই আয়োজন কুরআনের জ্ঞান সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে নতুন এক দিগন্তের সূচনা করেছে।