ক্যাম্পাস

শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের দাবি ছাত্রদল নেতা নাছিরের

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গত ১৭ বছরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ছাত্রলীগের পদধারী, অযোগ্য ও সন্ত্রাসী ব্যক্তিদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।

সোমবার (২৩ মার্চ) রাতে নোয়াখালী প্রেসক্লাবে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে ঈদ-পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।

নাছির উদ্দীন জানান, আওয়ামী শাসনামলে এমন অনেককে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাদের তিনি ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন। তারা ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডেও জড়িত ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষায়, শিক্ষক হওয়ার ন্যূনতম যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও অনেক সিনিয়র-জুনিয়রকে জোরপূর্বক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তিনি একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন, তিনি এমন একজনকে চেনেন যিনি ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং পড়ালেখার সময় টিউশনি করাতেন। কিন্তু, তার পড়ানোর মান এতটাই খারাপ ছিল যে অভিভাবকদের অভিযোগের কারণে একাধিক টিউশনি ছাড়তে হয়েছিল। কয়েক বছর পর হঠাৎ দেখা হলে ওই ব্যক্তি নিজেকে নোবিপ্রবির শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দেন। বিষয়টি তাকে বিস্মিত করেছে বলে জানান তিনি।

নাছির উদ্দীন আরো বলেন, “নোবিপ্রবি একটি গর্বের প্রতিষ্ঠান। এখানে অতীতে কীভাবে শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে, তা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে তুলে ধরা প্রয়োজন।” ভবিষ্যতে যোগ্যতার ভিত্তিতে সেরা প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি এবং শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা আরো শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় তিনি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিসহ জেলায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে অতীতে কী যোগ্যতায় এসব নিয়োগ হয়েছে তা জাতির সামনে তুলে ধরেন। দৈনিক জনকণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি শাহাদাত বাবুর সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ. বি. এম জাকারিয়া, সদস্য অ্যাডভোকেট রবিউল হাসান পলাশ এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান। সভায় জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।