দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জাতীয় সংসদে প্রণীত আইনের ভিত্তিতে পরিচালিত হলেও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) সিন্ডিকেট সদস্য মনোনয়নে সেই আইনের ব্যত্যয় ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৬-এর ১৭(১)(ঘ) ও ১৭(২) ধারা অনুযায়ী দুই বছরের জন্য সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের চিফ এক্সিকিউটিভ এম জাকির হোসেন খান এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ফাউন্ডার ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডা. মো. মাহবুবুর রহমানকে মনোনীত করা হয়। তবে, এম জাকির হোসেন খানকে মনোনয়নের ক্ষেত্রে আইনের ব্যত্যয় ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী, ‘সমধর্মী অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান’ থেকে দুইজন প্রতিনিধি সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে মনোনীত হওয়ার কথা। অর্থাৎ, এ ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু, চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, যা ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে জলবায়ু অর্থায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে কাজ করে—এটি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সিন্ডিকেট সদস্য মনোনয়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একাধিক নাম প্রস্তাব করে পাঠায়, যা পরবর্তীতে অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে তালিকার উপরের নামগুলোই সাধারণত গুরুত্ব পায়। সংশ্লিষ্ট তালিকায় এম জাকির হোসেন খানের নামটি প্রথমে ছিল বলেও জানা যায়।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অতীতে এই ধারার আওতায় যারা সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন, তারা সবাই কোনো না কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এবারই প্রথম এমন একজনকে মনোনীত করা হয়েছে, যিনি সরাসরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।
কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা বলেন, “চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ কীভাবে সমধর্মী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হলো, সেটি আমাদেরও প্রশ্ন। এই সিদ্ধান্ত উপাচার্য ও ট্রেজারার নিয়েছেন, এ বিষয়ে আমাদের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. মিজানুর রহমানও একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে বলেন, “মনোনয়নের বিষয়টি উপাচার্য নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি এবং প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে আমার স্পষ্ট ধারণাও নেই।”
তবে, উপাচার্য অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত শিক্ষা ও গবেষণাকেন্দ্র। চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে। সেই বিবেচনায় এটিকে সমধর্মী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ধরা হয়েছে।”
একই দাবি করেছেন চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের চিফ এক্সিকিউটিভ এম জাকির হোসেন খান।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য ড. মো. তানজীমউদ্দিন খান বলেন, “একটি বেসরকারি সংস্থা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমধর্মী হতে পারে না। সমধর্মী বলতে অবশ্যই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে হবে। এ ক্ষেত্রে আইনের স্পষ্ট ব্যত্যয় ঘটেছে।”