নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ফার্মাসি বিভাগের শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্টকে ঘিরে এক ভিন্নধর্মী উদ্যোগ নিয়েছেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মনিরুল ইসলাম। প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি করছে বাস্তব গবেষণার সুযোগ।
সাধারণত ক্লাসে কোনো টপিক কভার করা না হলে বা অতিরিক্ত শেখার উদ্দেশ্যে যে অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হয়, তার স্থায়িত্ব থাকে শুধুমাত্র নম্বর পাওয়ার আগ পর্যন্ত। তবে, এই প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে অ্যাসাইনমেন্টকে গবেষণা শিক্ষা ও পেপার প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত করার ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। এমন উদ্যোগের কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রশংসায় ভাসছেন এই শিক্ষক।
তার এক ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা যায়, গত বছর তিনি পরিকল্পনা করেন কিভাবে অ্যাসাইনমেন্টকে আরো স্থায়ী ও অর্থবহ রূপ দেওয়া যায়। সেই চিন্তা থেকেই বাছাই করা হয় কিছু গুরুত্বপূর্ণ টপিক, যেগুলো নিয়ে ন্যারেটিভ রিভিউ করা সম্ভব। এরপর স্বেচ্ছায় ও আগ্রহ নিয়ে কাজ করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের নির্বাচন করা হয়।
এ বিষয়ে একটি ব্যাচে ঘোষণা দেওয়া হলে অনেক শিক্ষার্থী আগ্রহ প্রকাশ করে। পরবর্তীতে তাদের নিয়ে নিয়মিত মিটিং, টপিক ব্যাখ্যা, বৈজ্ঞানিক লেখার পদ্ধতি শেখানো, প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ও টুলসের প্রশিক্ষণ এবং ড্রাফট রিভিশনের মাধ্যমে পুরো একটি গবেষণা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ফলস্বরূপ ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রজেক্ট সফলভাবে আন্তর্জাতিক জার্নালে গবেষণা পেপার হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের মতে, এই উদ্যোগের মূল অর্জন শুধু প্রকাশনা নয়; বরং শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে গবেষণার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন।
তিনি জানান, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা লিটারেচার রিভিউ, ডেটা এক্সট্রাকশন, ভিজুয়ালাইজেশন এবং রিভিউয়ারের মন্তব্যের জবাব প্রস্তুত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো শিখতে পারছে যা একটি গবেষণা পেপার প্রকাশের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ধাপ।
তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আরো বেশ কিছু প্রজেক্ট তার হাতে রয়েছে, যেগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছেন তিনি। তার প্রত্যাশা, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রতিযোগিতামূলক ও মানসম্পন্ন গবেষণায় নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারবে।
তিনি আরো বলেন, “বৈজ্ঞানিক কমিউনিটিতে এসব পেপারের মূল্য তুলনামূলকভাবে সীমিত হতে পারে। তবে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি বড় অর্জন। ভবিষ্যতে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করার সময়, অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করার পরও যদি একটি পাবলিকেশনের প্রয়োজন হয়, তাহলে এই অভিজ্ঞতা ও অর্জন তাদের এগিয়ে রাখবে।”