ক্যাম্পাস

বৈচিত্র্যেই সংস্কৃতির শক্তি: ববি হাজ্জাজ

সংস্কৃতি চর্চা হতে হবে উন্মুক্ত, বৈচিত্র্যময় ও সহনশীল, এমন মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, “কোনো অবস্থাতেই সাংস্কৃতিক চর্চাকে সীমাবদ্ধ বা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনা উচিত নয়।”

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, নববর্ষ উদযাপন আমাদের শিকড়ের সঙ্গে সংযোগের এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। এটি শুধু উৎসব নয়, বরং আমাদের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন। তিনি বলেন, সম্প্রতি সমাজে এমন কিছু প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যেখানে সংস্কৃতির নির্দিষ্ট কিছু দিককে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে—যা ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক নয়।

তিনি আরো বলেন, “সংস্কৃতি কখনো একমুখী হতে পারে না। সংগীত, নৃত্য, কবিতা ও লোকজ ঐতিহ্যসহ নানা ধারার সমন্বয়েই গড়ে ওঠে একটি জাতির সাংস্কৃতিক পরিচয়। তাই কোনো একটি ধারাকে একমাত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”

অন্যের সাংস্কৃতিক চর্চার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ব্যক্তিগত পছন্দ না থাকলেও অন্যের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মুক্তচিন্তা ও বহুমাত্রিক সংস্কৃতির বিকাশ বজায় রাখা জরুরি।”

তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠান থেকে যে সাংস্কৃতিক চর্চা শুরু হয়, তা সারাদেশে প্রভাব ফেলে। তাই এখানকার শিক্ষার্থীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাদের মাধ্যমেই দেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল আরও বিস্তৃত হতে পারে।

শেষে তিনি বলেন, “সংস্কৃতিকে সবাই নিজ নিজ ভাবে ধারণ করবে, কেউ রবীন্দ্রসংগীতে, কেউ নজরুলগীতে, কেউ বাউল বা ধর্মীয় সংগীতে। এই বহুমাত্রিকতাই আমাদের শক্তি, আর সেটি সংরক্ষণ করাই এখন সময়ের দাবি।”