জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) খাবারে মাছি পাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে জাকসুর এক নেতার বিরুদ্ধে হোটেল কর্মচারীর দিকে বাটি ছোড়ার অভিযোগ ওঠায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ঘটনাটির জেরে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বটতলা এলাকায় দোকানপাট বন্ধ করে দেয়।
বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে বটতলা এলাকায় অন্তত ২৫টি দোকান জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, আগের দিন রাতে বটতলার ‘হাবিব ভাইয়ের হোটেল’-এ খেতে গিয়ে জাকসুর স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক সম্পাদক হোসনে মোবারক খাবারে মাছি পান এবং এ নিয়ে কর্মচারীর সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তিনি কর্মচারীর দিকে হালিমের বাটি ছুড়ে মারেন বলে অভিযোগ ওঠে।
পরদিন বিকেল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যার পর একদল শিক্ষার্থী বটতলা এলাকায় দোকান বন্ধের আহ্বান জানায়। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে তারা দোকানদারদের দোকান বন্ধ রাখতে চাপ দেন।
দোকানদারদের কয়েকজন জানান, তারা দোকান বন্ধে অনীহা প্রকাশ করলে হুমকির মুখে পড়েন এবং পরে বাধ্য হয়ে দোকান বন্ধ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি ফুটেজের বরাতে জানা যায়, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা তূর্য কীর্তনিয়ার নেতৃত্বে ভাসানী হলসংলগ্ন দোকানগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ছাত্রশক্তি থেকে নির্বাচিত জাকসুর কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতি ও আরো কয়েকজন শিক্ষার্থী। পরে সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক উপস্থিত হলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও বাকবিতণ্ডা তৈরি হয়। এ সময় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীকেও তর্কে জড়িয়ে পড়তে দেখা যায়।
মোহাম্মদ আলী চিশতি বলেন, “জাকসু নেতা হোসনে মোবারকের ঘটনার বিচার হওয়া উচিত, তবে জোর করে দোকান বন্ধ করাকে তারা সমর্থন করেন না।”
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে হোসনে মোবারক বলেন, “খাবারে দুর্গন্ধ ও মাছি দেখতে পেয়ে প্রতিবাদস্বরূপ বাটি ছুড়ে মারেন, তবে কাউকে আঘাত করেননি।” তার মতে, খাবারের মান নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব এবং সমস্যা দেখলে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ প্রয়োজন।
এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান বলেন, “হল প্রশাসনকে না জানিয়ে নিচু বট এলাকার দোকান জোরপূর্বক বন্ধ করা গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার কেবল প্রশাসনের, এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে তা প্রতিহত করা হবে।”
সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক জানান, বাটি ছোড়ার অভিযোগ এবং দোকান বন্ধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হলেও পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে। বিষয়টি নিয়ে পরে আলোচনা করে সমাধান করা হবে।