ক্যাম্পাস

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে অফিস ফাঁকা, চলছে এসি-লাইট

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার যখন রাষ্ট্রীয় অফিসগুলোতে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমানোর নির্দেশনা দিয়েছে, তখন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। বেশিরভাগ দপ্তর ফাঁকা থাকলেও লাইট, ফ্যান ও এসি চলছিল যথারীতি।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, নির্ধারিত সময় পার হওয়ার ৪০-৪৫ মিনিট পরেও অধিকাংশ কর্মকর্তা দপ্তরে উপস্থিত ছিলেন না। প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় উপাচার্য যথাসময়ে উপস্থিত থাকলেও তার দপ্তরের প্রিন্সিপাল ডেমোনস্ট্রেটর ও সেকশন অফিসারদের পাওয়া যায়নি। অথচ ফাঁকা কক্ষেই চলছিল সব বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম।

একই অবস্থা দেখা গেছে রেজিস্ট্রার দপ্তরেও। উপ-রেজিস্ট্রার ও সহকারী রেজিস্ট্রারদের বেশিরভাগ কক্ষ তালাবদ্ধ ছিল। কিছু কক্ষে লাইট-ফ্যান চালু থাকলেও সেখানে কোনো কর্মকর্তার উপস্থিতি ছিল না।

অর্থ ও হিসাব দপ্তরের চিত্রও ভিন্ন নয়। অতিরিক্ত পরিচালক, উপ-পরিচালক, সহকারী পরিচালক, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ও সহকারী অডিট অফিসারদের বেশিরভাগ কক্ষই ফাঁকা ও তালাবদ্ধ পাওয়া যায়।

পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের পরিচালকসহ প্রকৌশল দপ্তরের উপ-প্রধান প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী, সহকারী প্রকৌশলী এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলীদের অনেককেই দপ্তরে পাওয়া যায়নি।

গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরেও একই চিত্র দেখা যায়। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও অতিরিক্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ কয়েকজন কর্মকর্তা অনুপস্থিত ছিলেন।

দপ্তরগুলোর কর্মচারীরা জানান, কর্মকর্তাদের বহনকারী বাস দেরিতে আসায় অনেকের অফিসে পৌঁছাতে দেরি হয়। তবে বাস পৌঁছানোর পরও কয়েকজন কর্মকর্তাকে অনুপস্থিত পাওয়া গেছে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে জারি করা ‘সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯’ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না থাকা বা সময়ের আগে অফিস ত্যাগ করা শুধু দায়িত্বহীনতা নয়, এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. মিজানুর রহমান বলেন, “সবার জন্য সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অফিস করা বাধ্যতামূলক। আমরা নিয়মিত বিভিন্ন দপ্তর তদারকি করি, এমনকি উপাচার্য মহোদয়ও তদারকিতে যুক্ত থাকেন। কারো অনুপস্থিতির বিষয়টি আমাদের নজরে এলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কেউ চরম পর্যায়ে গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”