ক্যাম্পাস

ঢাবি সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় শাবি-রাবিতে প্রতিবাদ

শাহবাগ থানায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক ও ডাকসু নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় দেশজুড়ে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) প্রেসক্লাব এবং বিক্ষোভ মিছিল করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) শাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি নোমান ফয়সাল ও সাধারণ সম্পাদক নুর আলম স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় শাহবাগ থানায় সংবাদ সংগ্রহের সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মানজুর হোছাঈন মাহি, সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলামসহ অন্তত ১০ জন সাংবাদিক আহত হন। আহতদের মধ্যে নাইমুর রহমান ইমন, খালিদ হাসান, সামশুদ্দৌজা নবাব, মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন সিফাত, হারুন ইসলাম, সৌরভ ইসলাম ও আসাদুজ্জামান খান রয়েছেন।

বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়, এর একদিন আগে বিজয় একাত্তর হলে দেয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হন।

শাবি প্রেসক্লাব নেতারা বলেন, “একটি গণতান্ত্রিক দেশে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে হামলা ও হেনস্তা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ। পুলিশ বেষ্টনীর মধ্যে থাকা একটি থানার ভেতরে এমন ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।” তারা মনে করেন, “এ ধরনের হামলা শুধু সাংবাদিকতার স্বাধীনতাকেই ক্ষুণ্ন করে না, বরং রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতাও বিঘ্নিত করতে পারে।”

এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য সরকার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে শাবি প্রেসক্লাব।

অন্যদিকে, একই ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাকসুর উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। রাকসু কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা ‘ডাকসুতে হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘আমার ভাই আহত কেন, জবাব দাও’, ‘শিক্ষা সন্ত্রাস একসাথে চলে না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সমাবেশে রাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক সালমান সাব্বির বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত ডাকসু প্রতিনিধিদের ওপর হামলার ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। এ ধরনের নৃশংস হামলার বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ফাহিম রেজা বলেন, “সারাদেশে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা বাড়ছে, যা উদ্বেগজনক।”

রাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, “ডাকসু প্রতিনিধিদের ওপর হামলা শুধু তাদের ওপর নয়, বরং সাধারণ শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও কর্মচারীদের জন্যও হুমকি। এ ধরনের ঘটনা বন্ধ না হলে শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।” বিক্ষোভ মিছিলে রাকসু ও হল সংসদের নেতৃবৃন্দসহ প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।