ক্যাম্পাস

ঢাবি সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি চায় ৩৭০ ক্যাম্পাস সাংবাদিক

সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ডুজা) সদস্যদের হামলার শিকার হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসের ৩৭০ জন সাংবাদিক। একইসঙ্গে তারা জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার কথা বলেন।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে কর্মরত এসব সাংবাদিক এক যৌথ বার্তায় তীব্র নিন্দা জানান।

যৌথ বার্তায় তারা বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্যদের ওপর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কতিপয় নেতাকর্মীর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে।

সাংবাদিকরা বার্তায় বলেন, এ ঘটনা শুধু স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত নয়, বরং এটি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধেরও পরিপন্থি। এ ধরনের হামলা দেশের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

তারা আরো বলেন, সাংবাদিকদের ওপর ধারাবাহিক হামলা, হেনস্তা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন নয়; বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত প্রবণতার অংশ বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। সাংবাদিকরা রাষ্ট্র ও সমাজের দর্পণ, তাদের কণ্ঠরোধের যেকোনো প্রচেষ্টা গণতন্ত্রকে দুর্বল করে দেয়।

এ বার্তায় হামলায় জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে। সরকারের প্রতি তাদের আহ্বান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বে কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার।

বার্তার শেষাংশে সাংবাদিকরা বলেন, হামলা, ভয়ভীতি বা দমন-পীড়নের মাধ্যমে সত্য প্রকাশ বন্ধ করা যাবে না। দেশের সব ক্যাম্পাস সাংবাদিক এ ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার থাকবে। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির ন্যায়সঙ্গত দাবির প্রতি পূর্ণ সংহতি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।

বার্তায় বলা হয়, বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ১৪ জন হামলাকারী ও একজন মূল উস্কানিদাতাকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মহসিন হল শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুজর গিফারী ইফাতকে মূল উস্কানিদাতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

শনাক্ত ১৪ জনের মধ্যে বিজয় একাত্তর হল ছাত্র সংসদের ছাত্রদল-সমর্থিত সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন, প্যানেলের সদস্য প্রার্থী সানিন সায়েদ, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল শাখা ছাত্রদলেরকর্মী জহিন ফেরদৌস জামি, যুগ্ম আহ্বায়ক সাঈদ হাসান সাদ, কর্মী আশ শামস, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হল শাখার সদস্য সচিব জুনায়েদ আবরার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি সৈকত মোরশেদ ও আমান উল্লাহ এবং সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক রিজভী আলমের নাম উঠে এসেছে।