দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকা হাম সংক্রমণ ও শিশুমৃত্যু ঠেকাতে সমন্বিত বৈজ্ঞানিক পদক্ষেপ এবং জাতীয় প্রস্তুতি আরো জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় জাবির রেজিস্ট্রার ভবনের সিনেট হলে ‘ইনসাইটস ফ্রম রিসেন্ট মিজেলস আউটব্রেক ইন বাংলাদেশ: স্ট্রেংথেনিং সায়েন্টিফিক রেসপন্স অ্যান্ড ন্যাশনাল প্রিপেয়ার্ডনেস’ শীর্ষক আয়োজিত এক বিশেষ বৈজ্ঞানিক সেমিনারে তারা এই আহ্বান জানান। বাংলাদেশ সোসাইটি অব মাইক্রোবায়োলজিস্টস (বিএসএম) এবং জাবির মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ যৌথভাবে এর আয়োজন করে।
সেমিনারে বক্তারা জানান, দেশে সাম্প্রতিক সময়ে হামের প্রাদুর্ভাব এবং শিশুমৃত্যুর হার জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ল্যাবরেটরি নজরদারি জোরদার, দ্রুত রোগ নির্ণয়, মলিকিউলার সার্ভেইল্যান্স বৃদ্ধি এবং টিকাদানের ঘাটতি পূরণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিশুদের ওপর রোগের প্রভাব সম্পর্কে ধারণা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন তারা।
অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীদের মধ্যে বক্তব্য দেন ড. ফিরদৌসী কাদরী, ড. খন্দকার মাহবুবা জামিল এবং ড. সঞ্জয় কুমার দে। সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় চিকিৎসক, মাইক্রোবায়োলজিস্ট, এপিডেমিওলজিস্ট ও নীতিনির্ধারকদের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন তারা।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, জীবাণু শনাক্তকরণ থেকে জিনোমিক গবেষণা; সব ক্ষেত্রেই মাইক্রোবায়োলজিস্টদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে দেশে এই খাতে পর্যাপ্ত গবেষণা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় তা জাতীয় স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আলোচনায় ভ্যাকসিন নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বক্তারা বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ বা গ্যাভি’র মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও দীর্ঘমেয়াদে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। নিজস্ব উদ্যোগে ভ্যাকসিন গবেষণা, উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে না পারলে ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞরা একমত হন যে, চলমান হাম পরিস্থিতি কেবল সাময়িক সংকট নয়; বরং এটি জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত রাখা, ল্যাবরেটরি নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা এবং স্বাস্থ্যখাতের সব স্তরে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।
বিভিন্ন বেসরকারি ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সহায়তায় এই সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।