চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ২০২৩ সালের ঐতিহাসিক ৫ মে স্মরণে ‘শাপলা গণহত্যা: ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
চাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র বিষয়ক সম্পাদক মোনায়েম শরীফের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান। চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব মুফতি জাকারিয়া নোমান ফয়েজী।
বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরবি বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম আবদুল কাদের, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কাজী বরকত আলী, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক মো. শহিদুল হক, দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোজাম্মেল হক এবং চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব।
উপ-উপাচার্য ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, “সমাজে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হলে ইসলামপন্থি সকল শক্তিকে বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অন্যায়, জুলুম ও অবিচারের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ গড়ে তোলাই সময়ের দাবি। শাপলা চত্বরে ঘটে যাওয়া ঘটনা আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।”
তিনি হেফাজতে ইসলামের নেতারা সংশ্লিষ্ট সবাইকে অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আরো সুসংগঠিতভাবে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব মুফতি জাকারিয়া নোমান ফয়েজী বলেন, “এক যুগ পেরিয়ে গেলেও শাপলা গণহত্যার বিচার হয়নি, শহিদরা পায়নি কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। পরিকল্পিতভাবে রাতের আঁধারে শত শত মানুষকে হত্যার ঘটনাটি ইতিহাসের বর্বরতম উদাহরণগুলোর একটি। শাপলা ট্রাজেডির মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকার ফ্যাসিবাদের বীজ বপন করেছিল।”
বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “দ্রুত শাপলা গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত না হলে সমাজে আস্থা ও স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় জড়িত সকলকে বিচারের আওতায় আনা জরুরি।”
চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, “শাপলা চত্বরের ঘটনার প্রকৃত চিত্র জাতির সামনে তুলে ধরা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমরা সরকারের কাছে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের দাবি জানাচ্ছি। সত্য গোপন না করে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”