ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আয়োজিত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অ্যাথলেটিকস (ছাত্র-ছাত্রী) ও বাস্কেটবল (ছাত্র)–২০২৬ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (৪ মে) থেকে বুধবার (৬ মে) পর্যন্ত দেশের ৫৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে তিন দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মোট ১৯টি ইভেন্ট নিয়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন সোমবার বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় এতে অংশ নিলেও গোবিপ্রবি অংশ নিতে না পারায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিয়মিত অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতা থাকা সত্ত্বেও এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাদ পড়া হতাশাজনক। এতে যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে, তেমনি প্রতিভাবান খেলোয়াড়রাও নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ হারিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় দেশের প্রায় সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নিচ্ছে, অথচ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ফুটবলে অংশ নিচ্ছে। অন্যান্য ইভেন্টে অংশ নেওয়ার বিষয়ে বাবুল মণ্ডল স্যারকে বলা হলেও তিনি অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে এটি সত্যিই হতাশাজনক।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হোসেন উদ্দিন শেখর বলেন, “বাবুল মণ্ডল (সহকারী পরিচালক, শরীরচর্চা শিক্ষা) এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন। হয়তো আমাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত খেলোয়াড় নেই। খেলাধুলা দেখভালের জন্য আলাদা কমিটি রয়েছে। তারা কোনো বিষয় উত্থাপন করলে আমরা তা বিবেচনা করি। এর আগে ড্যাফোডিলে ফুটবল খেলেছে, আবার চট্টগ্রামেও খেলতে যাচ্ছে।”
অন্যদিকে, শরীরচর্চা শিক্ষা বিভাগের সহকারী পরিচালক বাবুল মণ্ডল বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতির কারণে অনেক ক্ষেত্রে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে ক্রীড়া কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে, এতদিন কোনো ক্রীড়া কমিটি ছিল না। এছাড়া, ফুটবল দল নিয়েও কিছু জটিলতা ও খেলার বিরতি ছিল। সব মিলিয়ে এবার অংশগ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানো যাবে এবং পরবর্তী আসরগুলোতে আমরা অংশ নেব বলে আশা করছি।”