ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নতুন প্রো-ভিসি (প্রশাসন) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর আর্টিকেল ১৩(১) অনুযায়ী তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, যোগদানের তারিখ থেকে চার বছরের জন্য তিনি প্রো-ভিসি (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময় তিনি বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা ও বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন। পাশাপাশি তাকে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধি ও আইন অনুযায়ী নির্ধারিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ভাইস চ্যান্সেলর প্রদত্ত ক্ষমতাও প্রয়োগ করবেন তিনি। প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অধ্যাপক আলফেছানী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ থেকেই তিনি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। পরবর্তীতে একই বিভাগ থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
একাডেমিক ও গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সের ‘অ্যাসোসিয়েট ফেলো’ এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ‘ক্যাপস্টোন ফেলো’ নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী বাংলাদেশ জার্নাল অব প্ল্যান্ট ট্যাক্সোনমি-এর প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তার ১০০টিরও বেশি দেশি-বিদেশি গবেষণা প্রবন্ধ ও ছয়টি আন্তর্জাতিক বই প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া, তার তত্ত্বাবধানে চারজন গবেষক পিএইচডি এবং ৪০-এর বেশি শিক্ষার্থী এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
গবেষণায় তিনি বিশ্বে প্রথমবারের মতো ১৬টি নতুন শৈবাল প্রজাতি, একটি নতুন পদ্ম প্রজাতি এবং একটি পতঙ্গভুক উদ্ভিদ আবিষ্কার করেন। পাশাপাশি শৈবালনির্ভর পানি বিশুদ্ধকরণ ন্যানো-ফিল্টার, সুপার ক্যাপাসিটর ও বায়োসেন্সর উদ্ভাবনের মাধ্যমে পরিবেশ ও জৈবপ্রযুক্তি গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবের সাবেক সম্পাদক এবং বর্তমানে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া জীববিজ্ঞান অনুষদ সাদা দলের সাবেক আহ্বায়ক, ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সাবেক মহাসচিব এবং ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)-এর সাবেক প্রচার সম্পাদক ও বর্তমান যুগ্ম মহাসচিব হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন।
উচ্চমানের গবেষণা, উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা ও সাংগঠনিক নেতৃত্বের কারণে অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী দেশ-বিদেশে একজন খ্যাতিমান বিজ্ঞানী ও সংগঠক হিসেবে পরিচিত।