বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া চত্বরে এ অভিযোগে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন তারা। এ সময় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, ভর্তি ফি ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা, বিদ্যুৎ বিল ১২০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা, পরিবহন ফি ৩০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা এবং মেডিকেল সেন্টার ফি ১০০ টাকা থেকে ২০০ টাকা করা হয়েছে। ফলে আগের ব্যাচগুলোর তুলনায় তাদের প্রায় ৮০০ টাকা বেশি পরিশোধ করতে হচ্ছে।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়েই তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগকে তারা ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তবে সম্প্রতি প্রশাসনিক ও একাডেমিক বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত ফি নির্ধারণের সিদ্ধান্ত সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ তৈরি করেছে। তাদের ভাষ্য, বর্ধিত এই ফি শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।
শিক্ষার্থীরা আরো জানান, ১৬তম আবর্তনের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অতিরিক্ত আদায়কৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু পরে আবারও একই ধরনের অতিরিক্ত ফি আরোপের সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী দেশের অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা উত্তরাঞ্চল থেকে আসা। বর্তমান জাতীয় ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে হঠাৎ বাড়তি ফি বহন করা অনেক শিক্ষার্থীর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ আরো সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো—বিশ্ববিদ্যালয়ের সব খাতে আরোপিত অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক ফি বাতিল করা, ১৬ তম আবর্তনের সময়ে ফি কাঠামো পুনর্বহাল করা এবং ১৭ তম আবর্তনের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত আদায়কৃত অর্থ পরবর্তী সেমিস্টারের ফি’র সঙ্গে সমন্বয় অথবা সরাসরি ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া।
অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী মিনার হোসেন নয়ন বলেন, “আমাদের ওপর আগের তুলনায় অতিরিক্ত ফি আরোপ করা হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। তাই এত টাকা বহন করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়। আমরা চাই, আগের ব্যাচগুলোর মতো আমাদের ফিও আগের হার অনুযায়ী বহাল রাখা হোক।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ফেরদৌস রহমান বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি পেয়েছি। বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তুলনা করে দেখা হবে, সেখানে অতিরিক্ত ফি নেওয়া হচ্ছে কি না।”