ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর আত্মহত্যার ঘটনার বিচার নিশ্চিতকরণ এবং অভিযুক্ত শিক্ষক অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীর স্থায়ী বহিষ্কারসহ ৭ দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের সামনে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।
থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী তারিকুল সর্দার বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু কবে বিচার নিশ্চিত হবে, সে বিষয়ে আমরা এখনো অনিশ্চিত। অনেক ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা সামনে, আবার কেউ কেউ বিভাগ ছেড়ে চলে যাবে। ফলে আন্দোলন কতদিন চালিয়ে যেতে পারব, সেটিও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, “সুদীপ চক্রবর্তী ইতোমধ্যে অভিযুক্ত হয়েছেন। তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল এবং পরে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আমাদের মূল দাবি হলো, আজকের সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি উত্থাপন করে অন্তত সাময়িকভাবে তাকে বহিষ্কার করতে হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুসরণ করে স্থায়ী বহিষ্কারের প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে হবে।”
পরে থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সালিম শাদমান (সাশা) সাংবাদিকদের সামনে ৭ দফা দাবি তুলে ধরেন।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সুদীপ চক্রবর্তী ও উম্মে হানির বিষয়ে বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিক ও স্পষ্ট বক্তব্য প্রদান, প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত বিভাগের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন, নৈতিক স্খলন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে অভিযুক্ত সুদীপ চক্রবর্তীর স্থায়ী চাকরিচ্যুতি এবং বিভাগে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিভিন্ন ধরনের প্রলোভনের সংস্কৃতি বন্ধ করা।
ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে তিন কর্মদিবসের মধ্যে শর্তহীনভাবে চাকরিচ্যুত করার বিধান নিশ্চিত করার দাবিও জানান তারা।শিক্ষার্থীরা আরো দাবি করেন, মিমোর পরিবারের ওপর মামলা প্রত্যাহারে কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক চাপ যাতে সৃষ্টি না হয়, তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে আত্মহত্যার ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।
তদন্তে উম্মে হানির সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে তাকেও স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। তাদের বক্তব্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর বেআইনি সম্পর্কের ক্ষেত্রে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ের জন্যই সমানভাবে শাস্তির বিধান থাকা উচিত।
এছাড়া, কোনো শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশালীন ভাষায় কথা বলা বা বার্তা পাঠানো নিষিদ্ধ করার দাবি জানান তারা। একাডেমিক প্রয়োজন ছাড়া শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অপ্রয়োজনীয় যোগাযোগ বন্ধ এবং শিক্ষক মূল্যায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানান আন্দোলনকারীরা।
সবশেষে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষকের বিদেশ যাত্রার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) না দেওয়ার দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।