ক্যাম্পাস

মায়ের ছায়াতলে

আমার মা, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষদের একজন নন, তিনি আমার পৃথিবীরই শ্রেষ্ঠ মানুষ। মাকে নিয়ে লিখতে বসলে হয়তো শব্দ একসময় ফুরিয়ে যাবে, কিন্তু মায়ের গল্প কখনো শেষ হবে না।

আমার সাহস, আমার অনুপ্রেরণা, আমার কষ্টের ভাগীদার, আমার প্রথম বন্ধু, আমার বেস্ট ফ্রেন্ড, আমার সবকিছুই আমার মা। আজ আমি জীবনে যতটুকু সফলতা অর্জন করেছি, তার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান তারই।

আমার মায়ের মতো এত সাহসী, ধৈর্যশীলা, নিষ্ঠাবান, প্রজ্ঞাবান ও দূরদর্শী মানুষ খুব কমই দেখেছি। জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্তে তার বিচক্ষণতা, কঠিন সময়ে তার দৃঢ়তা আর দুঃসময়ে তার আশ্রয় আমাকে বারবার নতুন করে বাঁচতে শিখিয়েছে। ছোটবেলা থেকে তিনি আমাকে যেভাবে আগলে রেখেছেন, যে স্নেহ, মমতা, যত্ন আর ভালোবাসায় বড় করেছেন, সেই ঋণ কোনোদিন শোধ করার নয়। পৃথিবীর কোথাও এত নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আমি খুঁজে পাইনি।

চাকরির কারণে মা অনেক সময় বাইরে থাকলেও আমার খোঁজ নিতে কখনো ভুল করেননি। তিনি আমার প্রথম শিক্ষক, আবার শেষ শিক্ষকও। স্কুলজীবন থেকে শুরু করে ভর্তি পরীক্ষার সময় পর্যন্ত যতটুকু তার কাছে থেকেছি, তার কাছেই পড়েছি, বুঝেছি, শিখেছি। অসংখ্য পরীক্ষা দিয়েছি তার সামনে বসে। মা বই হাতে নিয়ে বলতেন, “এটা বলো, এটা লিখে দাও।” ক্লাসে ভালো করার পেছনের সবচেয়ে বড় গল্পটা আসলে আমার মাকে ঘিরেই।

প্রায় দশ বছর ধরে পড়াশোনার জন্য বাড়ির বাইরে আছি। এমন খুব কম দিন গেছে, যেদিন মায়ের সঙ্গে কথা হয়নি। একদিন হয়তো ফোনে ব্যালেন্স না থাকায় মা কল করতে পারেননি, আমিও ব্যস্ততায় ফোন করা ভুলে গিয়েছিলাম। পরদিন বাবা রিচার্জ করে ফোন দিলে মা কাঁদো কাঁদো গলায় বলেছিলেন, “আমি কল করিনি বলে তুমিও কি একবার কল করতে পারতে না?”

সেদিন বুঝেছিলাম, পৃথিবীতে সবাই আমাকে ভুলে গেলেও একজন মানুষ আছেন, যিনি প্রতিটি মুহূর্তে আমাকে মনে করেন—তিনি আমার মা। শুধু মা নন, আমার বাবা-ও আমার জীবনের অন্যতম বড় অনুপ্রেরণা। আমার সাফল্যে যিনি সবচেয়ে বেশি গর্ব অনুভব করেন, তিনি আমার বাবা।

আমার শ্রেষ্ঠ মা-বাবার প্রতি জানাই অফুরন্ত ভালোবাসা, গভীর শ্রদ্ধা এবং অশেষ কৃতজ্ঞতা। পৃথিবীতে যদি হৃদয় জুড়ানোর কোনো আশ্রয় থেকে থাকে, তবে সেটি আমার মায়ের পাশে, আর আমার বাবার ছায়াতলে। বিশ্ব মা দিবসে আমার প্রাণপ্রিয় মাকে জানাই অসীম ভালোবাসা আর আন্তরিক শুভেচ্ছা।

অসম্ভব ভালোবাসি তোমাকে, আম্মু। লক্ষ-কোটি বছর বেঁচে থেকো। আমার অনুপ্রেরণা, আমার সাহস, আমার বাঁচার শক্তি হয়ে সবসময় পাশে থেকো।

লেখক: শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ  বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর