ক্যাম্পাস

দুঃসময়ের সমর্থনকারী আমার মা

শত ব্যস্ততার মাঝেও যে সম্মোধনটি আমাদের প্রশান্তি আর ভরসার আশ্বাস দেয়, সেটি হলো মা। আমরা নিজেরা ব্যস্ত থাকলে কেউ ডাকলেই বিরক্ত হই। নিজেদের অজান্তেই বলে উঠি, “উফ! এখন আবার ডাকছে, একটু শান্তিতে বসতে দেবে না?” কিন্তু যে মানুষটি বিরক্তি দেখানো তো দূরের কথা, অভয়বাণী দিয়ে বলে, “আমি তো আছি”—সে হলো আমার মা।

প্রায়ই আমরা মাকে কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যেতে দেখি। তবুও যখনই তাঁকে ডাকি, কখনো বিরক্তি নিয়ে কথা বলতে দেখি না। বরং আমাদের সব কষ্ট দূর করে দিতেই তিনি যেন সদা প্রস্তুত থাকেন।

মাকে নিয়ে আমরা প্রায়ই অনেক অভিযোগ করি—মা এটা কেন করল না, ওটা কেন করল না। কিন্তু দিনশেষে দেখা যায়, মা-ই পরিবারের সবকিছু করেন। মায়ের তুলনা শুধু মা নিজেই। সম্পূর্ণ শাসনহীন কোনো ব্যক্তি সুপথে চালিত হতে পারে না। আবার শাসনের চেয়েও ভালোবাসা প্রয়োজন হয় অধিক পরিমাণে। মায়ের শাসনের মধ্যে মিশে থাকে আবেগ আর মায়া, যা সন্তানকে সুন্দরভাবে বেড়ে উঠতে সহায়তা করে।

পিতাকে বলা হয় বটবৃক্ষ, আর মা হলেন সেই বৃক্ষের মূল কাণ্ড ও শিকড়, যা গাছকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করে রাখে। মা আছেন বলেই জন্মের পর এই পৃথিবীতে আমাদের অস্তিত্ব টিকে থাকে।

আমরা বিপদে পড়লে অসহায় হয়ে যাই। দিশাহীন সেই সময়ে সবাই আমাদের ছেড়ে গেলেও মা নিশ্চয়তার হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলেন, “একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে।” অনেক সময় আমরা হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে পড়লে পৃথিবীর সবাই মুখ ফিরিয়ে নেয়। কিন্তু মা তখনও আমাদের পাশে থাকেন। অসুস্থ অবস্থায় কেউ থাকুক আর না থাকুক, শিয়রের পাশে মা নামক শেষ আশ্রয়স্থলটি সবসময়ই থাকে।

যেসব সন্তান ছোটবেলায় মাকে হারায়, তারাই সবচেয়ে বেশি বুঝতে পারে মায়ের গুরুত্ব কতটা গভীর। মা আছেন বলেই আমাদের জীবন এতটা নিশ্চিন্ত। তাই প্রতিটি সন্তানের জীবনে মায়ের অবদান অনস্বীকার্য।

লেখক: শিক্ষার্থী,সমাজকল্যাণ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া