ক্যাম্পাস

বাকৃবিতে গবেষণা ও কৃষিতে অবদানে সম্মাননা পেলেন ২৫ জন

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) গবেষকদের চলমান কাজের অগ্রগতি মূল্যায়ন করে গবেষণা ও কৃষিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ গবেষক, কৃষক ও কৃষি সাংবাদিকদের মিলিয়ে মোট ২৫ জনকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৯ মে) সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা অগ্রগতি কর্মশালায় এ বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গত তিন বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রকাশনা সংখ্যা, গুগল স্কলার ও রিসার্চগেটের এইচ-ইনডেক্সের ভিত্তিতে নির্বাচিত সেরা ২৫ জন গবেষকের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত পাঁচজনকে ‘গ্লোবাল রিসার্চ ইমপ্যাক্ট রিকগনিশন অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’ প্রদান করা হয়। এছাড়া অনুষদভিত্তিক সিনিয়র ও জুনিয়র ক্যাটাগরিতে আরো ১২ জন গবেষক একই স্বীকৃতি পান।

এবার প্রথমবারের মতো গবেষণায় নেতৃত্ব, বহিঃসংস্থার গবেষণা অনুদান সংগ্রহ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বাউ রিসার্চ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’ অর্জন করেন অধ্যাপক আহমদ খায়রুল হাসান।

অনুষ্ঠানে কৃষিক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ছয়জন কৃষককে ‘ড. আশরাফ আলী খান স্মৃতি কৃষি পুরস্কার-২০২৬’ দেওয়া হয়। কৃষি যান্ত্রিকীকরণে অবদানের জন্য যশোরের নজরুল ইসলাম, ৫৪০ প্রজাতির ধানের বীজ সংগ্রহশালা গড়ে তোলার জন্য নেত্রকোনার মো. সায়েদ আহমেদ খান এবং সমন্বিত কৃষি খামার গঠন ও প্রসারে অবদানের জন্য ফুলবাড়িয়ার মোছা. নার্গিস পারভীন সম্মাননা পান।

এছাড়া, কৃষির আধুনিকায়নের মাধ্যমে গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও মাছের খাদ্য উৎপাদনকারী ‘মিনার ফিড মিল’ প্রতিষ্ঠার জন্য ত্রিশালের মোহাম্মদ ইসরাফিল, আধুনিক মৎস্য খামার গড়ে তোলার জন্য ভালুকার মো. সাইফুল ইসলাম এবং কেঁচো কম্পোস্ট জৈব সার প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতিদিন ১০০ ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন ও ৫০টি পরিবারে গ্যাস সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ফরিদপুরের মোছা. তানিয়া পারভীনকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

গবেষক ও কৃষি উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি কৃষি সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সহ-সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশ-এর বাকৃবি প্রতিনিধি মো. আমান উল্লাহকে ‘বাউরেস কৃষি সাংবাদিকতা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান করা হয়।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) আয়োজিত এ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বাউরেসের পরিচালক অধ্যাপক মো. হাম্মাদুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জিয়াকুন সি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাউরেসের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ মতিউর রহমান। কর্মশালার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক মুহাম্মাদ জাভিদুল হক ভূঁঞা।

মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক জাভিদুল হক ভূঁঞা জানান, বাউরেসের তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৬২৬টি গবেষণা প্রকল্প সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে আরও ৬৩৮টি গবেষণা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গবেষণার অগ্রগতি মূল্যায়ন এবং গবেষকদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের লক্ষ্যেই প্রতিবছর এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি প্রান্তিক ও তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত কৃষকদের উৎসাহিত করতেই তাদের বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, “নতুন প্রবর্তিত ‘সেরা ফান্ড হান্টার গবেষক’ এবং পুরস্কারপ্রাপ্ত অন্যান্য গবেষকদের সাফল্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমকে আরও অনুপ্রাণিত করবে। বাকৃবির গবেষণা কর্মশালা একটি দীর্ঘ ঐতিহ্যের অংশ। ছোট পরিসরে শুরু হওয়া বাউরেস বর্তমানে দেশের অন্যতম কার্যকর ও বিশ্বস্ত গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এর স্বচ্ছতা ও দক্ষতার মডেল এখন দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ও অনুসরণ করছে।”

তিনি আরো বলেন, “দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ছয়জন উদ্ভাবনী কৃষককে সম্মানিত করার মাধ্যমে বাউরেস কৃষি উদ্যোক্তাদের আরো অনুপ্রাণিত করে চলেছে।”

শিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, “গবেষণা চলবে, তবে সেটার জন্য শিক্ষা কার্যক্রমকে অবহেলা করা যাবে না। ক্লাস-পরীক্ষার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।”

বাউরেস কর্তৃপক্ষ জানায়, তিন দিনব্যাপী এ কর্মশালায় মোট ২১টি প্যারালাল টেকনিক্যাল সেশন এবং অনুষদভিত্তিক ছয়টি পোস্টার সেশন অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রায় ৫৩৯টি গবেষণা প্রকল্পের ফলাফল উপস্থাপন করা হবে। মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রতিটি টেকনিক্যাল সেশন থেকে একজন করে মোট ২১ জন সেরা উপস্থাপককে পুরস্কৃত করা হবে। পাশাপাশি পোস্টার সেশন থেকে প্রতি অনুষদে তিনজন করে মোট ১৮ জনকে সেরা পোস্টার উপস্থাপক হিসেবে সম্মাননা দেওয়া হবে।