মা দিবসের প্রকৃত অর্থ শুধু একটি দিন উদযাপন নয়; বরং এই দিন আমাদের শেখায় মায়ের ত্যাগকে সম্মান করতে, তার অব্যক্ত কষ্টগুলো অনুভব করতে এবং নিঃশব্দ ভালোবাসার গভীরতা বুঝতে।
মা এমন এক অনুভূতির নাম, যার গভীরতা কোনো ভাষায় পুরোপুরি প্রকাশ করা সম্ভব নয়। পৃথিবীর সব ব্যাকরণ যেখানে হার মেনে যায়, সেখান থেকেই যেন ‘মা’ শব্দটির প্রকৃত সার্থকতা শুরু হয়।
আমি মাকে একটি বইয়ের সঙ্গে তুলনা করতে চাই। এমন এক বই, যার প্রতিটি পাতায় লেখা থাকে ত্যাগ, ভালোবাসা, মমতা আর নিরন্তর অপেক্ষার গল্প। যে বই কখনো পুরোনো হয় না, বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরো গভীর হয়ে ওঠে।
মায়ের ভালোবাসা নিঃস্বার্থ, নির্মল এবং চিরন্তন। মনোবিশ্লেষণমূলক দৃষ্টিকোণ থেকেও একজন মানুষের মানসিক গঠনে সবচেয়ে বড় প্রভাব রাখেন মা। শিশুর প্রথম আবেগ, প্রথম নিরাপত্তাবোধ, প্রথম ভালোবাসার অনুভূতি; সবকিছুর সূচনা হয় মায়ের কাছ থেকেই। তাই মাকে শুধু পারিবারিক পরিচয়ের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ রাখলে তার গুরুত্বের গভীরতা কখনোই পুরোপুরি বোঝা যায় না। তিনি একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব, মূল্যবোধ এবং মানবিকতার ভিত নির্মাণের মূল ভিত্তি।
পৃথিবীতে অনেক সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে বদলে যায়, অনেক সম্পর্কের শেষও আছে। কিন্তু মায়ের ভালোবাসা এমন এক আশ্রয়, যার কোনো সমাপ্তি নেই। সন্তানের জন্য তার দোয়া, উদ্বেগ আর ভালোবাসা কখনো ফুরায় না।
তাই মা দিবসে পৃথিবীর প্রতিটি মায়ের প্রতি রইল গভীর ভালোবাসা, অকৃত্রিম শ্রদ্ধা এবং হৃদয়ের অন্তহীন কৃতজ্ঞতা। কারণ মা শুধু একজন মানুষ নন; মা মানে পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়।
লেখক: শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা