ক্যাম্পাস

নবীনদের পদচারণায় মুখর রাবি ক্যাম্পাস

স্বপ্ন, প্রত্যাশা আর নতুন পথচলার উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে উঠেছে প্রাচ্যের কেমব্রিজখ্যাত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)।

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে রবিবার (১০ মে) সকাল থেকেই উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে ৬১টি বিভাগে নতুন শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়।

ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, নতুন প্রাণের উচ্ছ্বাসে জোহা চত্বর, পরিবহন চত্বর, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, প্যারিস রোড, ক্যাফেটেরিয়া ও বিভিন্ন অনুষদ ছিল লোকে লোকারণ্য। শিক্ষকদের দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য ও সিনিয়রদের উষ্ণ অভ্যর্থনায় মুগ্ধ হয়ে নতুন জীবনের সূচনা করেন শিক্ষার্থীরা। আনন্দঘন এ দিনে নবীনরাও নিজেদের অভিজ্ঞতা ও স্বপ্ন ভাগাভাগি করেন একে অপরের সঙ্গে।

দিনাজপুর থেকে আসা আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী শুভ রায় বলেন, “রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ পাওয়া সত্যিই অসাধারণ অনুভূতি। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় রাবির ক্যাম্পাস অনেক সুন্দর ও পরিবেশবান্ধব। ভর্তি প্রস্তুতির শুরু থেকেই আমার ইচ্ছা ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়ার। ভর্তি পরীক্ষা তুলনামূলক খারাপ হলেও এখানে ভালো অবস্থান অর্জন করতে পেরেছি। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী হতে চাই।”

পিরোজপুর থেকে আসা মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় রাবির ক্যাম্পাস অনেক বেশি সুন্দর ও পরিবেশবান্ধব। পাশাপাশি রাবির মার্কেটিং বিভাগও বেশ সুনামধন্য। ভবিষ্যতে একটি ভালো মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।”

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী রিফাত বলেন, “দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজ আমার জীবনের নতুন যাত্রা শুরু হলো। অনেক পরিশ্রম করে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পেরেছি। বিভাগের শিক্ষক ও বড় ভাই-বোনেরা খুব আন্তরিক। আশা করি, আমি আমার লক্ষ্য অর্জন করতে পারব।”

এদিকে, নবীন শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিংয়ের বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, র‍্যাগিং শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করে এবং এর শিকার শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তাই ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের র‍্যাগিং না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। কেউ র‍্যাগিং করলে বা এতে প্ররোচণা দিলে প্রমাণ সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া, বিভাগের সভাপতির অনুমতি ছাড়া অন্য বর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নবীনদের পরিচিতি বা মতবিনিময় অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে না।

সকল বিভাগের নবীন বরণ শেষে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুধু ক্লাস-পরীক্ষায় সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব জীবনের নানা অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হবে। নতুন এই যাত্রা তাদের জন্য শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং জ্ঞান, প্রতিভা ও সম্ভাবনার নতুন অধ্যায়ের সূচনা।