সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় ১০–১৫ জন মিলে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। তবে, এ ঘটনায় অভিযুক্ত কাউকে চিনতে পারেননি ভুক্তভোগী।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মসজিদের পাশে এ ঘটনা ঘটে। পরে আহত অবস্থায় তাকে চিকিৎসার জন্য ধামরাই উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী তৌহিদ আহমেদ সালেহিন আইন বিভাগের ২৯ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, “ক্লাস শেষে বন্ধুদের সঙ্গে চায়ের আড্ডা দিচ্ছিলাম। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে আসার সময় মসজিদের সামনে হঠাৎ ১০-১৫ জন আমার ওপর হামলা চালায়। তারা আমাকে পেছনে ঘুরতে দেয়নি, যাতে তাদের চেহারা দেখতে না পারি। একপর্যায়ে আমাকে মাটিতে ফেলে লাথি-ঘুষি মারে। হামলায় আমার ডান হাতের আঙুল অবশ হয়ে গেছে, মাথার পেছনেও প্রচণ্ড ব্যথা করছে। আমার গেঞ্জিটাও ছিঁড়ে গেছে।”
তিনি আরো বলেন, “আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি দৌড়ে পালিয়ে যায়। তাই কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।”
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, হামলাকারীরা বহিরাগত এবং তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীর সহপাঠী সালমান বলেন, “আমি, সালেহিন আর আতিক নানির দোকানে বসে ছিলাম। তখন থেকেই হামলাকারীরা আমাদের অনুসরণ করছিল। আড্ডা শেষে ভার্সিটির দিকে ফেরার সময় পেছন থেকে সালেহিনের ওপর হামলা করে। আমরা সামনে থাকায় ঘুরে দেখি তাকে মারছে। হামলাকারীদের আমি চিনতে পারিনি।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর জামিনুর রহমান বলেন, “যেকোনো ধরনের শারীরিক হামলা বা সহিংস ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অত্যন্ত নিন্দনীয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাউন্ডারি এখনো পুরোপুরি ঘেরা না থাকায় বহিরাগতদের শনাক্ত করা কঠিন হচ্ছে। এ কারণে কারা ঘটনাস্থলে প্রবেশ করেছিল বা কারা হামলায় জড়িত, তা তাৎক্ষণিকভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।”
তিনি আরো বলেন, “বাউন্ডারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে বহিরাগতদের সহজ প্রবেশের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এ অবস্থায় পুরো এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরার আওতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সহজে শনাক্ত করা যায়।” পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।