জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের আন্তঃব্যাচ ফুটসাল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফাইনালে ১৬ তম ব্যাচকে ট্রাইব্রেকারে ২-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে ১৭ তম ব্যাচ।
মঙ্গলবার (১৯ মে) অনুষ্ঠিত ফাইনালে মুখোমুখি হয় সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ১৬ ও ১৭ তম ব্যাচ। পুরো ম্যাচজুড়ে দুই দলই দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে। তবে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়েও কোনো দল গোলের দেখা না পাওয়ায় ম্যাচ গড়ায় ট্রাইব্রেকারে। সেখানে ২-০ গোলে জয় তুলে নিয়ে শিরোপা নিজেদের করে নেয় ১৭তম ব্যাচ।
সমাজকল্যাণ ফুটবল ও ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক এবং ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম তারিকের পৃষ্ঠপোষকতায় তিন দিনব্যাপী এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করেন ইনস্টিটিউটের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। এতে ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন ব্যাচের সাতটি দল অংশ নেয়।
ফুটসাল হলো ছোট মাঠ বা ইনডোরে পাঁচ সদস্যের দল নিয়ে খেলা ফুটবলের একটি জনপ্রিয় সংস্করণ। বাংলাদেশে করপোরেট, বিশ্ববিদ্যালয় ও বয়সভিত্তিক পর্যায়ে নিয়মিত ফুটসাল টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়।
টুর্নামেন্ট শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের জন্যও পুরস্কৃত করা হয়। ১৭ তম ব্যাচের রাকিবুজ্জামান রাতুল ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়, একই ব্যাচের মাহমুদুল হাসান তানভীর টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড়, জালাল আহমেদ সেরা গোলকিপার এবং ১৬তম ব্যাচের মেহেদী হাসান তরু সর্বোচ্চ গোলদাতা নির্বাচিত হন।
ফাইনাল শেষে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মাহবুবা সুলতানা প্রধান অতিথি এবং ইনস্টিটিউটের ছাত্র উপদেষ্টা ড. শেখ তৌহিদুল ইসলাম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন।
এ সময় সমাজকল্যাণ স্পোর্টসের অলরাউন্ডার মো. তৌফিকুজ্জামান, রিসাদ সরকারসহ ইনস্টিটিউটের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অতিথিরা তাদের বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম ও ক্রীড়াচর্চায় সম্পৃক্ত থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম তারিক বলেন, “মাদকমুক্ত ও মেধাভিত্তিক ক্যাম্পাস গঠনে তরুণ সমাজকে মাঠমুখী করা এখন সবচেয়ে জরুরি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তৃণমূল থেকে খেলোয়াড় তুলে আনা এবং ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছেন। তরুণ প্রজন্মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখতে খেলাধুলায় আরও বেশি সম্পৃক্ত হতে হবে।”
তিনি আরো বলেন, “সমাজকল্যাণ ইনস্টিটিউটের এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি মনস্তাত্ত্বিক বিকাশেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।” শিক্ষার্থীদের যেকোনো ইতিবাচক ও কল্যাণমুখী উদ্যোগে তারা সবসময় পাশে থাকবেন বলেও জানান তিনি।