‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়’ বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্তকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য হুমকি আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। সংগঠনটি বলেছে, এ সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগের প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন ও সাংবিধানিক ভারসাম্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
বুধবার (২০ মে) ডাকসুর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়’ প্রতিষ্ঠা করেছিল। এর মাধ্যমে নিম্ন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলাবিধান নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে বর্তমান সরকার ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ বিল’ পাসের মাধ্যমে সেই অধ্যাদেশ বাতিল করেছে। একইসঙ্গে সচিবালয় বিলুপ্ত করে সিনিয়র সচিবসহ ১৫ জন কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে ডাকসু নেতারা বলেন, সংবিধান অনুযায়ী বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনআকাঙ্ক্ষা। তাদের অভিযোগ, অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকার বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছে এবং অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলি ও পদোন্নতির মাধ্যমে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়েছে।
ডাকসুর ভাষ্য অনুযায়ী, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক ভিত্তি। রাষ্ট্রক্ষমতার পৃথকীকরণ ছাড়া কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তাদের মতে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ছিল নির্বাহী বিভাগের প্রভাব কমিয়ে সাংবিধানিক ভারসাম্য রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা বাতিলের সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগকে পুনরায় নির্বাহী নিয়ন্ত্রণের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বর্তমান সরকার জনগণের রায় ও গণআকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করছে, যা তাদের ভাষায় ‘স্বৈরাচারী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ’।
ডাকসু অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় পুনর্বহাল এবং বিচার বিভাগের পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলাবিধানের নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের হাতে ন্যস্ত করার আহ্বান জানানো হয়।