ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) একাডেমিক শাখায় ফি হিসাব সংরক্ষণে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। সেশন ফি ও পরিবহন ফি ব্যাংকে জমা দেওয়ার পরও খাতায় ‘বকেয়া’ দেখানোয় সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট তুলতে ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) একাডেমিক শাখায় কর্মকর্তাদের চরম গাফিলতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের সেশন ফি ও পরিবহন ফি-সহ সব ধরনের ফি ব্যাংকে যথাসময়ে জমা দেওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব খাতায় তা ‘বকেয়া’ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। ফলে অনার্সের সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তুলতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা পদে পদে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
অভিযোগ রয়েছে, জমা দেওয়া টাকার রশিদ দেখাতে না পারলে অনেক শিক্ষার্থীকে পুনরায় ফি পরিশোধ করতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। সম্প্রতি একাডেমিক শাখা থেকে সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট তুলতে গিয়ে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী এমন ভোগান্তির মুখে পড়েন।
নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করে হিসাব খাতায় এন্ট্রি দেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। তবে দীর্ঘদিন ধরে এ কাজ সঠিকভাবে না হওয়ায় সনদ বা ট্রান্সক্রিপ্ট তুলতে গেলে শিক্ষার্থীদের কাছেই পূর্বের জমার রশিদ চাওয়া হচ্ছে। রশিদ হারিয়ে গেলে বা তাৎক্ষণিক দেখাতে না পারলে তাদের আবারও একই ফি পরিশোধ করতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মিনহাজ বলেন, “প্রয়োজনীয় কাগজে স্বাক্ষর করাতে গেলে একাডেমিক শাখার কর্মকর্তা জানান, আমার ছয়টি ফি বকেয়া রয়েছে। পরে রশিদ দেখানোর পর স্বাক্ষর করেন। আজ যদি রশিদ দেখাতে না পারতাম, তাহলে হয়তো আমাকে অতিরিক্ত টাকা দিতে হতো।”
আরেক শিক্ষার্থী তানজিল বলেন, “আমার কোনো বকেয়া না থাকলেও টাকা বাকি আছে বলে জানানো হয়। দুটি রশিদ বাসায় রেখে আসায় কর্মকর্তা স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান। আমরা জানতে চাইলে যে না দেখে কীভাবে বকেয়া বলা হলো এবং রশিদ দেখালে তিনি এর দায় নেবেন কি না, তখন তিনি আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন।”
এ বিষয়ে একাডেমিক শাখার কর্মকর্তা মহিউদ্দিন হাওলাদার বলেন, “কিছু বিভাগের শিক্ষার্থীদের সেশন ও পরিবহন ফির রশিদ ব্যাংক থেকে আমাদের কাছে এখনো আসেনি। তাই এ ধরনের সমস্যা হচ্ছে।”
তবে অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এ দাবি নাকচ করে জানান, রশিদগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, “তারা ব্যাংকের নামে মিথ্যা বলছে। হয়তো দায় এড়ানোর জন্য এমন কথা বলছে। একাডেমিক শাখা ব্যাংকের কাছে পূর্বের রশিদের কপি চেয়ে নোট দিয়েছে। পরে আমরা ব্যাংকে সংরক্ষিত রশিদগুলোর ফটোকপি তাদের দিয়েছি।”
এ বিষয়ে একাডেমিক শাখার প্রধান ও উপ-রেজিস্ট্রার আলীবদ্দীন খান বলেন, “কর্মকর্তাদের এ ধরনের আচরণ মোটেও কাম্য নয়। আমরা এ বিষয়ে দ্রুত মিটিং ডাকব। শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি নিরসনে ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় করে আসন্ন ঈদের মধ্যেই সব সমস্যা সমাধান করব।”