দেশের উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতের লক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ‘প্রিপারেশন ফর অ্যাক্রেডিটেশন: ডকুমেন্টেশন অ্যান্ড এভিডেন্স’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালায় বক্তাদের আলোচনায় উঠে আসে, উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনে অ্যাক্রেডিটেশন সংস্কৃতি গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
বুধবার (১০ জুন) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর সম্মেলনকক্ষে দিনব্যাপী এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। হায়ার এডুকেশন অ্যাক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (HEAT) প্রকল্পের অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল (বিএসি) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি'র যৌথ উদ্যোগে কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইকিউএসি'র অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় সভাপতির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেসবাহউদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে হলে অ্যাক্রেডিটেশন সংস্কৃতি গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিটি বিভাগ, অনুষদ ও প্রশাসনিক ইউনিটকে প্রমাণভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। অ্যাক্রেডিটেশন সেই জবাবদিহিতা ও মানোন্নয়নের কাঠামো তৈরি করে।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক মাছুমা হাবিব বলেন, “বর্তমান বিশ্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নির্ধারণে অ্যাক্রেডিটেশন একটি অপরিহার্য বিষয়।” তিনি উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে মানোন্নয়ন কার্যক্রম আরো শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আব্দুল আলীম বলেন, “আমি একজন কৃষির শিক্ষক। জানি, গুণগত বীজই ভালো ফসল দেয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় গুণগত শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক উৎকর্ষতা অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ ধরনের কর্মশালা শিক্ষক ও প্রশাসকদের মধ্যে অ্যাক্রেডিটেশন বিষয়ে সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
আইকিউএসি'র পরিচালক অধ্যাপক মো. আবু রেজা বলেন, “উচ্চশিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনে এ ধরনের উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরো সুসংগঠিত, দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।
তিনি আরো বলেন, “বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এ যৌথ উদ্যোগ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে আরো নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করতে সহায়ক হবে।”
কর্মশালার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের পূর্ণকালীন সদস্য অধ্যাপক এস. এম. কবীর। তিনি অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টেশন, প্রমাণ সংরক্ষণ, তথ্য ব্যবস্থাপনা, স্ব-মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রণয়ন এবং গুণগত মান নিশ্চিতকরণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
তিনি বলেন, “অ্যাক্রেডিটেশন শুধু একটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নয়; এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, যা শিক্ষা, গবেষণা, প্রশাসন ও সেবার প্রতিটি ক্ষেত্রে গুণগত উৎকর্ষতা নিশ্চিত করার পথ তৈরি করে। সঠিক ডকুমেন্টেশন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সংরক্ষণ ছাড়া কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জন ও সক্ষমতা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়।”
এ সময় উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ, বিএসির পরিচালক অধ্যাপক নাসির উদ্দিন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ, আইকিউএসি'র অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক মো. মনিমুল হক, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, আইসিটি সেন্টারের পরিচালক, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, বিভাগীয় সভাপতিসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় লোকপ্রশাসন, পরিসংখ্যান, ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল, মার্কেটিং, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি, উদ্ভিদবিজ্ঞান, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য এবং দর্শন বিভাগসহ মোট আটটি বিভাগের সভাপতি ও পিএসএসি সদস্যরা অংশ নেন।