ক্যাম্পাস

নিখোঁজের দুইদিন পর বুড়িগঙ্গায় মিলল জাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ

নিখোঁজের দুই দিন পর রাজধানীর বসিলা এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদী থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীর নাম দ্বীপ মজুমদার।

রবিবার (১৪ জুন) বিষয়টি জানিয়েছেন ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নৌ-পুলিশ) মাহফুজুর রহমান।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং শহীদ রফিক-জব্বার হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন।

প্রাথমিকভাবে মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৫৩ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আন্নী আক্তার। তিনি জানান, তার ফুফাতো ভাই বসিলা এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীতে একটি অজ্ঞাত মরদেহ দেখতে পান। পরে মরদেহের কাছে পাওয়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্রের ছবি তুলে তাকে পাঠান। পরবর্তীতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট একটি ফেসবুক গ্রুপে পরিচয়পত্রের ছবিসহ বিষয়টি শেয়ার করেন।

একই বিভাগের ৫০ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইব্রাহিম জানান, দ্বীপ মজুমদার তাদের সহপাঠী ছিলেন। তিনি বলেন, “পারিবারিক একটি বিষয় নিয়ে অভিমান করে তিনি দুই দিন আগে বাসা থেকে বের হয়ে যান। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। গতকাল তার মা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশেদুল আলম বলেন, “আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষার্থীর সহপাঠী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। এখনই এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।”

ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নৌ-পুলিশ) মাহফুজুর রহমান বলেন, “বুড়িগঙ্গা নদী থেকে একটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া পরিচয়পত্র অনুযায়ী তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী দ্বীপ মজুমদার। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনাটির তদন্ত চলছে।”

মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।