সংসদ প্রতিবেদক : প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পাস হবে আজ। বাজেট পাস হলে আগামীকাল ১ জুলাই থেকে তা কার্যকর হবে।
রোববার সকাল ১০টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হয়েছে একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন। অধিবেশন শুরুতেই ৫৯টি বিল উথাপিত হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন। বাজেট পাসের আগে শনিবার (২৯ জুন) বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন ছাড়াই পাস করা হয় অর্থবিল-২০১৯। তবে অর্থবিলে সঞ্চয়পত্রে ১০ শতাংশ উৎসে করই বহাল রাখা হয়েছে। আগে ৫ শতাংশ ছিল।
বাজেট অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রীসহ অধিকাংশ মন্ত্রী-এমপিরা উপস্থিত আছেন।
সংসদ সূত্র জানায়, নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ নেয়ার ক্ষেত্রে গ্রাহকের টিআইএন (কর শনাক্তকরণ নম্বর) নেয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে নেয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর আবেদনের পর সরকার এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ ছাড়া আরো কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে যেসব পরিবর্তন আনা হচ্ছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে অগ্রিম কর বাবদ যে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছিলো তা বাদ দেয়া হচ্ছে। বাতিল নয়, কিছুটা কমিয়ে নির্ধারণ করা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদির মাধ্যমে ব্যবসা) ও ভার্চুয়াল বিজনেস বা অনলাইনে পণ্য বেচাকেনাসহ বেশকিছু খাতের ভ্যাট। নতুন বাজেটে এসব খাতে সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
নতুন অর্থবছরের বাজেটে সিমেন্টের কাঁচামাল আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট ১৫ শতাংশের পাশাপাশি ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর ধরা হয়েছে। ফলে এ খাতে নতুন করে ভ্যাট দাঁড়াবে ২০ শতাংশ। এতে ব্যাগ প্রতি সিমেন্টের দাম ৪২ টাকা বাড়বে। বাজেটে রড শিল্পের ওপর ৬৫০ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। এর প্রভাবে টনপ্রতি রডের দাম বাড়বে প্রায় ১২ হাজার টাকা। এতে মধ্যবিত্তের গৃহনির্মাণে খরচ বাড়বে, একই সঙ্গে সরকারের চলমান উন্নয়ন প্রকল্প বিশেষ করে সরকারের মেগা প্রকল্প ও আবাসন খাত সমস্যায় পড়বে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এবং একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশার কথা ভেবে এ খাতে অগ্রিম আয়কর তুলে নেওয়া হতে পারে।
এর আগে শনিবার (২৯ জুন) বিদ্যমান কর ও শুল্ক হার পরিবর্তনের বিধান করে অর্থবিল-২০১৯ সংশোধিত আকারে পাস করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থমন্ত্রীর পক্ষে বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন। বিলটি গত ১৩ জুন উত্থাপন করা হয়। রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩০ জুন ২০১৯/আসাদ/ইভা