অর্থনীতি

এশিয়াটিক ল্যাবের শেয়ারের লক-ইন বাড়াল

পুঁজিবাজারে ওষুধ ও রসায়ন খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের উদ্যোক্তা, পরিচালক ও প্লেসমেন্ট শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ারের লক-ইন মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) থেকে উত্তোলিত অর্থ নির্ধারিত খাতে ব্যবহার সম্পন্ন না করা এবং ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যের বাইরে উচ্চাভিলাষী প্রকল্প ঘোষণার ঘটনায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে ৯৯৯তম কমিশন সভায় মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর খসড়া প্রসপেক্টাস অনুমোদন দেওয়া হয়।

সভা শেষে বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ৩১ আগস্ট ২০২২ তারিখে কমিশনের ৮৩৭তম কমিশন সভায় এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের ৯৫ কোটি টাকা প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে উত্তোলন করার প্রস্তাব অনুমোদনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ওই আইপিওর মাধ্যমে ৯৫ কোটি টাকা পুঁজি উত্তোলন করে কোম্পানিটি ব্যবসায় সম্প্রসারণ (যন্ত্রপাতি ক্রয় ও ইনস্টলেশন), ফ্যাক্টরি ভবন নির্মাণ, ব্যাংক ঋণ পরিশোধ এবং ইস্যু ব্যবস্থাপনা খরচ খাতে ব্যয় করবে মর্মে কোম্পানিটির প্রসপেক্টাসে উল্লেখ থাকলেও কোম্পানিটি এখন পর্যন্ত প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে উত্তোলনকৃত অর্থ বা আইপিও ফান্ডের ব্যবহার সম্পন্ন করতে পারেনি। 

আইপিও ফান্ডের ব্যবহার সম্পন্ন না করে প্রকল্প মূল্যায়ন, সম্ভাব্যতা যাচাই ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন (রাজউক কর্তৃক বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন, পরিবেশগত ছাড়পত্র ইত্যাদি) ব্যতিরেকে এবং পূর্বঅভিজ্ঞতা ও দক্ষতা ছাড়াই কোম্পানিটি ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে ৩২ তলাবিশিষ্ট বিল্ডিং নির্মাণের উচ্চাভিলাসী পরিকল্পনা সম্পর্কিত প্রাইস সেনসিটিভ ইনফরমেশন (পিএসআই) প্রকাশ করে। 

৩২ তলাবিশিষ্ট বিল্ডিং নির্মাণ তথা রিয়েল এস্টেট/হোটেল ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার বিষয়টিও কোম্পানিটির সংঘস্মারকের সঙ্গ সংগতিপূর্ণ নয়। এ বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃক পরিদর্শন পরিচালিত হয় এবং উক্ত পরিদর্শন প্রতিবেদনেও উপরোল্লিখিত অসঙ্গতি ধরা পড়ে। 

বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিদর্শন প্রতিবেদনের সুপারিশ, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের উদ্যোক্তা, পরিচালক ও প্লেসমেন্ট শেয়ারহোল্ডারদের (প্রসপেক্টাসে উল্লেখিত ১৮৩ জন/প্রতিষ্ঠান) ধারণকৃত শেয়ারের উপর বিদ্যমান লক-ইন অবমুক্তির তারিখ হতে পরবর্তী ৩ বছর বা প্রস্তাবিত ৩২-তলাবিশিষ্ট বিল্ডিংয়ের নির্মাণকাজের সমাপ্তি ও বাণিজ্যিক ব্যবহার চালুকরণের (রাজউক এর অকুপেন্সি সার্টিফিকেটসহ) মধ্যে যেটি পরে সম্পন্ন হবে, ততদিন পর্যন্ত লক-ইন বৃদ্ধিকরণের সিদ্ধান্ত কমিশন কর্তৃক গৃহীত হয়।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আইপিও অর্থের ব্যবহার নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ব্যবসার বাইরে নতুন খাতে প্রবেশের চেষ্টা বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কমিশনের এই সিদ্ধান্ত উদ্যোক্তাদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা এবং আইপিও অর্থের যথাযথ ব্যবহার তদারকির বার্তা দেবে।