বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, “সেবা দিতে এসেছি, পদত্যাগ ইস্যু নয়।”
তিন কর্মকর্তার শোকজ নোটিশ প্রত্যাহার, বদলির আদেশ বাতিল, গভর্নরের পদত্যাগে বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের দাবির পর বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন তিনি এ কথা বলেন।
তিন কর্মকর্তার বিষয়ে তিনি বলেন, “প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসারেই সিদ্ধান্ত হবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে নিয়মতান্ত্রিক কার্যপ্রণালী মানতেই হবে।”
শোকজের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘অপপ্রচার’ বেড়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “পরিস্থিতি প্রশমনে সাময়িক বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জবাবের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
গভর্নর বলেন, “একটি কুচক্রি মহল সীমিত সংখ্যক কর্মকর্তাকে ব্যবহার করে সরকারি নীতিগত সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে।”
গভর্নর বলেন, “৭ ব্যাংকের মধ্যে পাঁচটির একীভূত ও সহায়তা কর্মসূচি কোনো স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের বিষয় নয়, এটি সরকারি নীতির অংশ। প্রায় ৭৬ লাখ আমানতকারীর স্বার্থ রক্ষায় সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক মিলিয়ে ৩২ হাজার কোটি টাকার সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকার থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স ফান্ড থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, “গত দুই বছর ধরে কিছু ব্যাংকের আমানতকারীরা নিয়মিত টাকা পাচ্ছিলেন না। ধাপে ধাপে অর্থ ছাড়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। নানা পদক্ষেপের ফলে ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে।”
এর আগে বুধবার সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন কর্মকর্তার শোকজ নোটিশ প্রত্যাহার, বদলির আদেশ বাতিলসহ একাধিক দাবি পূরণ না হলে বৃহস্পতিবার ফেব্রুয়ারি থেকে কলম বিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা দেন বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের ব্যানারে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।