অর্থনীতি

৬ মাসে কৃষিঋণ বিতরণ ২১ হাজার কোটি টাকা 

দেশে কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণ বেড়েছে। ঋণ বিতরণের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে আদায়ের পরিমাণ। তবে একইসঙ্গে বকেয়া ও খেলাপি ঋণের পরিমাণ দ্রুত বাড়ায় নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ও পল্লী ঋণ অর্থায়ন সংক্রান্ত এক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। 

২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৯ হাজার কোটি টাকা। অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে ব্যাংকগুলো কৃষিঋণ বিতরণ করেছে ২১ হাজার ৮ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে বিতরণ হয়েছিল ১৬ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ আলোচ্য সময়ের ব্যবধানে কৃষিঋণ বিতরণ প্রায় ২৯ শতাংশ বেড়েছে।

শুধু ডিসেম্বর মাসে কৃষি ঋণ বিতরণ হয়েছে ৪ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা, যা আগের বছরের ডিসেম্বরের তুলনায় প্রায় ৫৫ শতাংশ বেশি। আগের বছর একই সময়ে বিতরণ করা হয়েছিল ৩ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা।

প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কৃষিঋণ আদায় বেড়েছে। গত ডিসেম্বরে কৃষিঋণ আদায় হয়েছে ৩ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা। যা আগের বছরের ডিসেম্বরের তুলনায় বেশি। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কৃষিঋণ আদায় হয়েছিল ৩ হাজার ৪৭ কোটি টাকা। 

জুলাই–ডিসেম্বর সময়ে মোট আদায় দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৭৭৪ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি। আগের বছর একই সঙ্গে কৃষিঋণ আদায় হয়েছিল ১৯ হাজার ১১৭ কোটি টাকা।

বকেয়া ও খেলাপি ঋণে বড় উল্লম্ফন দেখা গেছে কৃষিঋণে। সবচেয়ে উদ্বেগের জায়গা হলো বকেয়া ঋণ। গত ডিসেম্বর শেষে কৃষিঋণের স্থিতি (সুদসহ) দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা। এক বছর আগে ছিল ৫৬ হাজার ১৮ কোটি টাকা। 

এদিকে, কৃষি খাতের খেলাপি ঋণ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৬৯৩ কোটি টাকায়। এক বছর আগে যা ছিল ১১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংক ও বেসরকারি ব্যাংকে কৃষি খাতের খেলাপি বেড়েছে বেশি।

ফসল ও প্রাণিসম্পদ খাতে কৃষিঋণে জোর দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে মোট কৃষিঋণের ৪৯ শতাংশ গেছে ফসল খাতে। গত বছর একই সময়ে ছিল ৪৭ শতাংশ। প্রাণিসম্পদ ও হাঁস-মুরগি খাতে গেছে ২৬ শতাংশ, যা আগের বছর ছিল ২৪ শতাংশ। অন্যদিকে মৎস্য ও অন্যান্য খাতে অংশ কিছুটা কমেছে। এতে বোঝা যায়, মূল উৎপাদন খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়ানোর দিকে জোর দিচ্ছে ব্যাংকগুলো। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রামীণ অর্থনীতিতে উৎপাদন বাড়াতে কৃষি ও পল্লী ঋণের প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। বিতরণ ও আদায়ে ইতিবাচক প্রবণতা থাকলেও খেলাপি ঋণের দ্রুত বৃদ্ধি ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক সংকেত বলে মনে করছেন তারা। কৃষি ও পল্লী অর্থায়নে গতি টেকসই রাখতে হলে খেলাপি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ঋণ তদারকি জোরদার, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন তারা।