পবিত্র ঈদুল ফিতরের আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর শপিংমল থেকে ফুটপাতের অস্থায়ী দোকান পর্যন্ত জমে উঠেছে ঈদের বাজার। নতুন পোশাক কেনার ধুমে ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্রেতারা। বিশেষ করে নারীদের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে রাজধানীর বড় বড় বিপণিবিতান।
বিক্রেতারা জানান, প্রতি বছরের মতো এবারো নারীদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তানি পোশাক। বিভিন্ন ধরনের পাকিস্তানি লন, চিকনকারি, এমব্রয়ডারি থ্রি-পিস, শিফন, জর্জেট ও নেটের কাজ করা ড্রেসের চাহিদা বেশি। নতুন ডিজাইন, হালকা কাপড় এবং আকর্ষণীয় নকশার কারণে অনেক নারী এসব পোশাকের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
রাজধানীর ওয়ারিতে শপিং মলে কেনাকাটা করতে আসা গৃহিণী অনামিকা আহমেদ বলেন, “পাকিস্তানি লনের ড্রেসগুলো দেখতে সুন্দর এবং কাপড়ও আরামদায়ক। তাই ঈদের জন্য একটি পাকিস্তানি থ্রি-পিস কিনেছি। তবে পাকিস্তানি ড্রেসের দাম একটু বেশি মনে হয়েছে।”
বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে কেনাকাটা করতে আসা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিশাত সালসাবিল বলেন, “পাকিস্তানি ড্রেসের ডিজাইন আলাদা ধরনের হয়। তবে এখন দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোও ভালো ডিজাইন করছে, তাই সেগুলোর প্রতিও আগ্রহ বাড়ছে।”
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ডিজাইন ও মান ভেদে পাকিস্তানি ড্রেসের দাম ৪ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে। তবে উন্নত মানের ও ভারী কাজ করা কিছু ডিজাইনের পোশাকের দাম ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্তও রয়েছে।
পাকিস্তানি পোশাকের পাশাপাশি ঈদ বাজারে ভারতীয় পোশাকের চাহিদাও কম নয়। বিশেষ করে ভারতীয় কুর্তি, আনরকালী, লেহেঙ্গা ও বিভিন্ন এমব্রয়ডারি করা থ্রি-পিস অনেক ক্রেতা কিনছেন। ভারতীয় পোশাকের ক্ষেত্রেও ডিজাইন ও কাপড়ের মান অনুযায়ী দামের ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে।
পাকিস্তানি ও ভারতীয় পোশাকের দাম গত কয়েক বছরের তুলনায় বেড়েছে বলে জানিয়েছেন পোশাক আমদানিকারকদের সংগঠন ফেব্রিংক্স ইম্পোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন। তিনি রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “ডলারের মূল্য বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাজারে সুতার দাম বেড়ে যাওয়া ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং আমদানি খরচ বাড়ার কারণে পাকিস্তান ও ভারত থেকে আসা পোশাকের দাম বেড়েছে। এসব কারণের প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও।”
অন্যদিকে, ঈদ উপলক্ষে দেশীয় ব্র্যান্ডের পোশাকের দোকানগুলোতেও ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে আড়ং, বিশ্বরঙ, সেইলর, ইজি, একস্ট্যাসি, জেন্টাল পার্ক, ইউলো, লা রিভ ও ম্যানস ওয়ার্ল্ড–এর পোশাকের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ রয়েছে।
মিরপুর থেকে বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে কেনাকাটা করতে আসা চাকরিজীবী মৌসুমি মিতু বলেন, “দেশীয় ব্র্যান্ডের পোশাক এখন অনেক আধুনিক হয়েছে। ডিজাইনও ভালো। তাই আমি আড়ং থেকে পোশাক নিয়েছি।”
তবে ঈদে ছেলেদের পোশাকের ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। অনেক তরুণ ও যুবক দেশীয় ব্র্যান্ডের পাঞ্জাবি কিনতেই বেশি আগ্রহী। বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও মান ভেদে ছেলেদের পাঞ্জাবির দাম ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে রয়েছে।
রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মাসুম বিল্লাহ বলেন, “ঈদে পাঞ্জাবি ছাড়া যেন উৎসবটাই পূর্ণ হয় না। দেশীয় ব্র্যান্ডের পাঞ্জাবির ডিজাইন ও কাপড়ের মান ভালো, তাই সেখান থেকেই কিনেছি।”
আরেক ক্রেতা রাশেদ মাহমুদ বলেন, “দেশীয় ব্র্যান্ডের পাঞ্জাবিগুলো এখন খুব স্টাইলিশ হয়। দামও তুলনামূলক সহনীয়। তাই ঈদের জন্য একটি দেশি ব্র্যান্ডের পাঞ্জাবি নিয়েছি।”
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ক্রেতাদের ভিড় ততই বাড়ছে। শেষ সপ্তাহে বিক্রি আরো বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।