ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ তালিকাভুক্ত ৯৯.৯১ শতাংশ কারখানায় ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৯৯.৮১ শতাংশ কারখানায় ঈদের বোনাস দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট হাতেগোনা কয়েকটি কারখানার বেতন ভাড়া পরিশোধ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যা আজকের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।
বুধবার (১৮ মার্চ) রাজধানীর উত্তরা বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান, সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, পরিচালক ফয়সাল সামাদ, পরিচালক নাফিস-উদ-দৌলা, পরিচালক মজুমদার আরিফুর রহমান, পরিচালক শেখ হোসেন মোহাম্মদ মোস্তাফিজ, পরিচালক কাজী মিজানুর রহমান, পরিচালক জোয়ারদার মোহাম্মদ হোসনে কমার আলম, পরিচালক এ.বি.এম. সামছুদ্দিন, ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনী, পরিচালক রুমানা রশীদ, পরিচালক মোহাম্মদ সোহেল, পরিচালক সামিহা আজিম এবং বিজিএমইএ এর জনসংযোগ ও প্রচার কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদ কবির ও ওয়ান স্টপ সেলের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক ভূইঁয়া।
তিনি জানান, কোনো আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকা সত্ত্বেও প্রায় ৬৪.০৩ শতাংশ কারখানা মানবিক বিবেচনায় মার্চ মাসের আংশিক বেতন অগ্রিম হিসেবে শ্রমিকদের পরিশোধ করে দিয়েছে। মহাসড়কে যাত্রীদের চাপ কমাতে এলাকাভিত্তিক ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া হচ্ছে। গতকাল ১৭ মার্চ পর্যন্ত ৫০ শতাংশ কারখানায় ছুটি হয়েছে এবং আজ ও আগামীকালের মধ্যে বাকি কারখানাগুলো ছুটি দিবে।
মাহমুদ হাসান খান বলেন, “চরম সংকটের মধ্যে থেকেও পোশাক শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিশ্চিত করেছেন উদ্যোক্তারা।”
বিজিএমইএ সভাপতি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় পর্যায়ের বহুমুখী সংকটের মধ্যে থেকেও বিজিএমইএ সদস্যরা শ্রমিক ভাই-বোনদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে তাদের বেতন, ভাতা, উৎসব বোনাস পরিশোধে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, যার ফলশ্রুতিতে শ্রমিক ভাইবোনেরা আইন সম্মত পাওনা বুঝে পেয়েছেন এবং শিল্প এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।”
তিনি সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “বর্তমান শিল্পবান্ধব ও শ্রমবান্ধব সরকার কর্তৃক শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধের জন্য সহজ শর্তে বিশেষ ঋণ সুবিধা প্রদান এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার নগদ সহায়তা ছাড় করা-এই পদক্ষেপগুলো পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের তীব্র তারল্য সংকট লাঘবে এবং শিল্পের চাকা সচল রাখতে অত্যন্ত কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।”