ঈদুল ফিতরের ছুটির রেশ কাটতেই রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের দামে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। মাছ ও মুরগির দামে ঊর্ধ্বগতিতে ক্রেতাদের অস্বস্তি বাড়লেও সবজির বাজারে মিলেছে কিছুটা স্বস্তি।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাজধানীর কাপ্তান বাজার, কারওয়ান বাজার, রায়সাহেব বাজার, বংশাল কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে সোনালি মুরগির দাম বেড়েছে প্রায় দেড় গুণ। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৪৫০ টাকায় উঠেছে। একইভাবে ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়ে ১৯০ টাকা থেকে ২১০-২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কাপ্তান বাজারের মুরগি বিক্রেতা জয়নুল হক বলেন, “চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ কম। পাইকাররা কম মুরগি আনছেন, তাই দাম বাড়ছে।”
মুরগির বাড়তি দামে অসন্তোষ জানিয়েছেন ক্রেতারা। মুরগি কিনতে আসা মোজাম্মেল হোসেন বলেন, “কয়েক দিন আগেও সোনালি মুরগি ৩০০ টাকা কেজি কিনেছি, এখন ৪৫০ টাকা দিতে হচ্ছে। সুযোগ পেলেই দাম বাড়ানো হচ্ছে। এসব সিন্ডিকেট দেখার যেন কেউ নেই।”
মাংসের বাজারে গরুর মাংসে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা এক সপ্তাহ আগে ৮৫০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।তবে খাসির মাংস এখনো চড়া, কেজি প্রতি প্রায় ১৩০০ টাকা।
বাজার ঘুরে মাছের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। রুই মাছ কেজিপ্রতি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ৩০-৫০ টাকা বেশি। শিং মাছ ৫০ টাকা বেড়ে ৪৫০-৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাতল মাছ সাইজভেদে ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি। এছাড়া তেলাপিয়া, পাঙাশ ও পাবদাসহ অন্যান্য মাছেও কেজিতে ৩০-৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।
অন্যদিকে, সবজির বাজারে তুলনামূলক স্বস্তি রয়েছে। চাহিদা ও সরবরাহ-দুটিই কিছুটা কম থাকায় দাম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, ঝিঙ্গা ৫০ টাকা, লাউ ৪০-৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০-৭০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা, শসা ৩০-৫০ টাকা কেজি দরে। কাঁচা মরিচ কেজি ১৩০ টাকা এবং পেঁয়াজ ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলুর দাম বেড়ে কেজিতে ২৫ টাকা হয়েছে। লেবু হালি ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য সবজির দামও কেজিতে ৫-১০ টাকা কমে ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে রয়েছে।
ক্রেতারা বলছেন, সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও মুরগি ও মাছের বাড়তি দামে সামগ্রিক খরচ কমছে না। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক হলে শিগগিরই মুরগির দাম কমে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে।