অর্থনীতি

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাধা মিয়ানমারের সংঘাত: শামা ওবায়েদ

মিয়ানমারে চলমান সংঘাতের কারণে এখনই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। 

তিনি বলেছেন, মিয়ানমারের বর্তমান অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও সংঘাত সত্ত্বেও আগের অভিজ্ঞতার আলোকে বর্তমান সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান স্পষ্ট, রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হচ্ছে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা ও সমর্থন জোরদারের পাশাপাশি বাংলাদেশ কূটনৈতিক, আইনি ও মানবিক সব উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।

সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নোত্তরে এই তথ্য তুলে ধরেন শামা ওবায়েদ। 

চট্টগ্রাম-১৫ আসনের শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, বিএনপি ১৯৭৮ ও ১৯৯২ সালে দুই দফায় সফল রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন করতে সক্ষম হয়েছে। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ নিয়মিতভাবে রোহিঙ্গা তথ্য যাচাইকরণ করছে।”

“এ পর্যন্ত সরকার হতে ছয়টি ধাপে আট লাখ ২৯ হাজার ৩৬ জন রোহিঙ্গার তথ্য মিয়ানমার সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ তিন লাখ ৫৪ হাজার ৭৫১ জনের (জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত) তথ্য যাচাই করেছে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে পাঠানো তালিকার মধ্যে মিয়ানমার সরকার দুই লাখ ৫৩ হাজার ৯৬৪ জনকে ‘পূর্বে মিয়ানমারে বসবাসকারী ব্যক্তি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে,” বলেন তিনি।

দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক বিচারিক প্রক্রিয়াসমূহে বাংলাদেশ নৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন প্রদান করেছে বলে তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যা অপরাধ সংগঠনের দায়ে একটি মামলা নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমারের মামলাটি পরিচালনায় বাংলাদেশ আর্থিক সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ এই আইনি প্রক্রিয়াকে গভীর গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চলমান উদ্যোগসমূহকে সমর্থন করছে।

ইরান  থেকে  ফেরানো হয়েছে ১৮৬ বাংলাদেশিকে  যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরানে আটকে পড়া ১৮৬ বাংলাদেশিকে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহায়তায় একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। 

সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাংলাদেশ সরকারের একমাত্র ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সেখানকার মিশনগুলো ২৪ ঘণ্টা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী সংসদকে জানান, চলমান এই সংঘাতে দুর্ভাগ্যবশত পাঁচজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হলেও তাদের মধ্যে দুজনের মরদেহ ইতোমধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। 

তিনি আরো জানান, বাংলাদেশিরা কখন কোথায় যুদ্ধের মধ্যে পড়ছেন, তা অনেক সময় তারা নিজেরাই বুঝতে পারেন না। এমন জটিল পরিস্থিতির মধ্যেও তেহরান থেকে আইওএম-এর সহযোগিতায় ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুন না কেন, বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বর্তমানে সরকারের একমাত্র অগ্রাধিকার।