অর্থনীতি

অসদাচরণের অভিযোগে বিএসইসির সহকারী পরিচালক সাময়িক বরখাস্ত

অসদাচরণের অভিযোগে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) একজন সহকারী পরিচালককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বরখাস্ত হওয়া বিএসইসির কর্মকর্তা হলেন মোহা. ইব্রাহীম আলী। তিনি বিএসইসিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কর্মচারী চাকরি বিধিমালা, ২০২১ অনুযায়ী অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে।

সম্প্রতি বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ স্বাক্ষরিত জারি করা এক আদেশে এ তথ্য জানা গেছে।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, সহকারী পরিচালক ইব্রাহীম আলীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কর্মচারী চাকরি বিধিমালা, ২০২১ এর বিধি ২(১), বিধি ৩৬ (আচরণ ও শৃঙ্খলা) সম্পর্কিত বিধি ৩৬(১)(ক) এবং বিধি ৪৯(খ) এর আওতায় ‘অসদাচরণ’ এবং উক্ত ‘অসদাচরণ; সম্পর্কিত বর্ণিত যে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কর্মচারী বিধিমালা, ২০২১ এর বিধি ৫০ এর আওতায় চাকরি হতে বরখাস্ত কিংবা অন্য যেকোনো গুরুদণ্ড আরোপ করা প্রয়োজন হবে। এ অভিযোগে ইব্রাহীম আলীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কর্মচারী চাকরি বিধিমালা, ২০২১ এর বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় কার্যধারা শুরু করার কমিশনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

আদেশে আরো উল্লেখ করা হয়, অভিযোগের মাত্রা ও প্রকৃতি বিবেচনায় ইব্রাহীম আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা প্রয়োজন ও সমীচীন মর্মে কমিশনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সেহেতু, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কর্মচারী চাকরি বিধিমালা, ২০২১ এর বিধি ৫৫(১) বিধি অনুসারে সহকারী পরিচালক ইব্রাহীম আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। তিনি সাময়িকভাবে বরখাস্ত থাকবার সময় সরকারি বিধি ও আদেশানুযায়ী খোরাকি ভাতা পাবেন।

কমিশনের ভেতরে শৃঙ্খলামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর আগে গত বছরের এপ্রিল মাসে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ২১ জন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল, যা সংস্থার অভ্যন্তরে আতঙ্ক ও মনোবল হ্রাসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সাবেক পরিচালক আবু রায়হান মোহাম্মদ মুতাসিম বিল্লাহকে অসদাচরণ প্রমাণিত হওয়ায় বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। তার বিরুদ্ধে গৃহনির্মাণে অগ্রিম অর্থের অপব্যবহার, ভুয়া অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল, অসম্পূর্ণ বিল উপস্থাপন এবং অতিরিক্ত অর্থের আবেদনসহ একাধিক অভিযোগ ছিল।