ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রবিবার (৫ এপ্রিল) সূচকের বড় পতনের মধ্যে দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন ডিএসইতে আগের কার্যদিবসের চেয়ে টাকার পরিমাণে লেনদেন কমলেও সিএসইতে বড়েছে। একইসঙ্গে, উভয় পুঁজিবাজারে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার এবং মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দাম কমেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও আমেরিকার যুদ্ধ প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে। এ সংঘাত দীর্ঘমেয়াদী হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। এতে এক শ্রেণির বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে পুঁজিবাজারে সূচক পতনের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না।
বাজার পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অনেক দিন ধরে পুঁজিবাজারে লেনদেনের শুরুতে সূচকের উত্থান দেখা গেলেও লেনদেনের শেষদিকে তা পতনে রূপ নেয়। একইভাবে রবিবার সকাল থেকেই সূচকে পতনে লেনদেন শুরু হয়। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পতনমুখী প্রবণতা আরো বাড়তে থাকে। লেনদেনে শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সূচকের পতনমুখী প্রবণতা অব্যাহত ছিল।
ডিএসই ও সিএসই সূত্রে জানা গেছে, দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ১০৭.৪৬ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ১১২.২৭ পয়েন্টে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৮.৪৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৪১.১০ পয়েন্টে এবং ডিএস৩০ সূচক ৩৫.০২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৪৫.৩৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
ডিএসইতে মোট ৩৯০টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে ২৫টি কোম্পানির, কমেছে ৩৫৪টির এবং অপরিবর্তিত আছে ১১টির।
এদিন, ডিএসইতে মোট ৫১১ কোটি ৯৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৬২৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সিএসসিএক্স সূচক আগের দিনের চেয়ে ১২৮.১৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৮ হাজার ৮৫৪.৪৯ পয়েন্টে। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২২৮.৪০ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৪৭৩.০৯ পয়েন্টে, শরিয়াহ সূচক ৮.৫৭ পয়েন্ট কমে ৮৮৬.৫৩ পয়েন্টে এবং সিএসই ৩০ সূচক ২৫৩.৯৫ পয়েন্ট কমে ১২ হাজার ৬০২.৭০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
সিএসইতে মোট ১৯০টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে ৩৩টি কোম্পানির, কমেছে ১৪৮টির এবং অপরিবর্তিত আছে ৯টির।
দিন শেষে সিএসইতে ৪৩ কোটি ৪০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৯ কোটি ৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক মো. আল-আমিন রাইজিংবিডিকে বলেন, “ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার খবরে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। ফলে তারা শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়িয়ে দিয়েছেন। হঠাৎ শেয়ার বিক্রির চাপ বেড়ে যাওয়া পুঁজিবাজারে সূচকে বড় পতন ঘটেছে।”