অর্থনীতি

‘এলডিসি গ্রাজুয়েশন সামনে রেখে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই’

শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, “এলডিসি গ্রাজুয়েশন সামনে রেখে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরো প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে না করার সুযোগ আর নেই, এই বাস্তবতায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে ঢাকার হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে এসএমই ফাউন্ডেশন আয়োজিত ক্রেডিট হোলসেলিং কর্মসূচির আওতায় ১২টি ব্যাংক ও চারটি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় আমাদের শিল্প খাতকে আরো প্রতিযোগিতামূলক, সহনশীল এবং উদ্ভাবনমুখী করে তোলা অত্যন্ত জরুরি। এই লক্ষ্য অর্জনে এসএমই খাতের জন্য সহজ শর্তে এবং সময়োপযোগী অর্থায়ন নিশ্চিত করা অপরিহার্য।” 

তিনি বলেন, “দেশের এসএমই খাতের উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এসএমই ফাউন্ডেশনকে আরো শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের করা হবে।”

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উল্লেখ করেন, “দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের বিকাশে স্বল্পমূল্যের জ্বালানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমানে জ্বালানির ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। এর সঙ্গে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও বিভিন্ন বাহ্যিক চ্যালেঞ্জও যুক্ত হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, “এলডিসি গ্রাজুয়েশনের ফলে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পাওয়া অনেক কনসেশনাল ঋণের সুযোগ ইতোমধ্যে সীমিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা আরো সংকুচিত হবে। ফলে দেশের অর্থনীতিকে টেকসইভাবে এগিয়ে নিতে অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দক্ষতা উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি।”

তিনি বলেন, “প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ নতুন কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। তাদের কর্মসংস্থানের জন্য ধারাবাহিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা অপরিহার্য। শুধু উন্নয়ন নয়, বর্তমান অবস্থান ধরে রাখতেও আমাদের একটি নির্দিষ্ট হারে প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন।”

প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের লজিস্টিক খরচ জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ, যেখানে বৈশ্বিক মান প্রায় ১০ শতাংশ। এই ব্যবধান কমাতে না পারলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করা কঠিন হয়ে পড়বে।”

শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, “উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিশেষ করে জিডিপিতে ভূমিকা রাখতে যোগ্য করে তুলতে আমরা কাজ করছি।

এই চুক্তির আওতায় মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আরো প্রায় ৪০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ দেবে এসএমই ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশনের রিভলভিং ফান্ড থেকে ক্রেডিট হোলসেলিং কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হবে। একজন উদ্যোক্তা সর্বনিম্ন ১ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। এই ঋণের সুদের হার হবে মাত্র ৮ পাসেন্ট। এ লক্ষ্যে ১৫টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন। 

পাশাপাশি Japan International Cooperation Agency (JICA)-এর সহায়তায় সরকারি সংস্থা Bangladesh Infrastructure Finance Fund Limited (BIFFL)-এর সঙ্গে চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের কৃষিভিত্তিক শিল্প ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) উদ্যোক্তাদেরকে ৭টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শতকরা ৯ ভাগ সুদে ১২৫ কোটি টাকা ঋণ দেবে এসএমই ফাউন্ডেশন। এই প্রকল্পে একজন উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। 

এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে অংশীদার ১১টি ব্যাংক ও ৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীগণ এই চুক্তি স্বাক্ষর করেন। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক, ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, আইডিএলসি ফাইন্যান্স, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স ও ইউনাইটেড ফাইন্যান্স। 

এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন এবং শিল্পসচিব মো. ওবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার এবং উইমেন এন্ট্রাপ্রেনিউর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর সভাপতি নাসরীন ফাতেমা আউয়াল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন- এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী।