জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেছেন, “বিএনপি নিজের খোঁড়া গর্তে নিজেই পড়েছে। এখন শুনছি, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে বাংকার ও টানেল করা হচ্ছে। কিন্তু, জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে বাংকার করে কোনো লাভ হবে না।”
সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (আইইডিবি) মুক্তিযোদ্ধা হল রুমে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের আয়োজনে ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
সারোয়ার তুষার বলেন, “সংসদীয় সার্বভৌমত্বের দোহাই দিয়ে সরকার দেশে সংসদীয় স্বৈরতন্ত্র কায়েম করতে চাচ্ছে। সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ও চিফ হুইপ জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কথা বললেও সরকারপক্ষ নির্বাক। বড় মাছ ছোট মাছকে গিলে খাওয়ার মতো এই যে সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রের চক্রান্ত, তা ১১ দলীয় জোট ও দেশের জনগণ সফল হতে দেবে না।”
সরকারের কঠোর সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, “বিরোধী দলের মাত্র ৭৮ জন সংসদ সদস্য থাকলেও জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও সংস্কার ইস্যুতে তারা সোচ্চার। অথচ, দুই তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে সরকারি দলের সদস্যরা নীরব। আইনমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে একের পর এক অসত্য তথ্য দিচ্ছেন। মানবাধিকারকর্মীরা দেখিয়েছেন, তিনি অন্তত ১০-১৫টি বিষয়ে জাতিকে ভুল তথ্য দিয়েছেন।”
তিনি বলেন, “যেকোনো সভ্য গণতান্ত্রিক দেশে আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো ব্যক্তিদের পদে থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। তারা জাতিকে অসত্য তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছেন।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে সারোয়ার তুষার বলেন, “সরকারের এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সবচেয়ে ব্যর্থ। তিনি নিজের মন্ত্রণালয়ের খবর না রেখে ক্রীড়া থেকে স্বাস্থ্য সব বিষয়ে উত্তর দিচ্ছেন। অথচ, গত দুই মাসে দলীয় কোন্দলে ৩০ জনের বেশি বিএনপি নেতা-কর্মী হত্যার শিকার হয়েছেন। তিনি নিজেকে সংবিধান বিশেষজ্ঞ মনে করলেও প্রতি পদে ভুল ও বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। তার এই মাস্টারি করার স্পর্ধা পুরো জাতির জন্য অপমানজনক।”