অর্থনীতি

সিএমএসএফ তহবিল ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের নির্দেশ

পুঁজিবাজারের আমানতকারীদের অবণ্টিত লভ্যাংশ নিয়ে গঠিত ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডের (সিএমএসএফ) তহবিল ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হওয়ছে। হয়েছে। মূলত তহবিলের নিরাপত্তা জোরদার করা, কেন্দ্রীভূত ঝুঁকি (ফান্ড কনসেন্ট্রেশন রিস্ক) কমানো, ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আরো বাড়াতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

জানা গেছে, সিএমএসএফ তহবিল ব্যবস্থাপনায় মূলত তিনটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে-প্রধান ব্যাংক হিসাব স্থানান্তর, এক্সিম ব্যাংক থেকে আমানত প্রত্যাহার এবং ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) বিনিয়োগ ফেরত আনতে রোডম্যাপ প্রণয়ন। এই নির্দেশনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের দায়িত্ব বিএসইসির সংশ্লিষ্ট বিভাগকে দেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বয়ে এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে, যা শেয়ারবাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় একটি বড় ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিএসইসি সূত্র জানিয়েছে, প্রধান ব্যাংক হিসাব স্থানান্তরের বিষয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সিএমএসএফের যে প্রধান পরিচালনা ব্যাংক হিসাবটি বর্তমানে বেসরকারি ব্যাংকে রয়েছে তা অবিলম্বে কোনো সরকারি তফসিলি ব্যাংকে স্থানান্তর করতে হবে। এর ফলে তহবিল ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি স্বচ্ছতা আরো নিশ্চিত হবে।

এছাড়া বেসরকারি এক্সিম ব্যাংকে সিএমএসএফের জমাকৃত অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, ওই চিঠির অনুলিপি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও বিএসইসিকে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, সিএমএসএফ কর্তৃক আইসিবিতে বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা রোডম্যাপ দাখিল করতে বলেছে কমিশন। এজন্য আইসিবিকে চিঠি পাঠানো হবে এবং এর অনুলিপিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। আর আইসিবি কীভাবে এবং কবে এই টাকা ফেরত দেবে, তা এখন থেকে নিয়মিত তদারকি করবে কমিশন ও অর্থ মন্ত্রণালয়।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিএমএসএফের তহবিল ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্তগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে বিভিন্ন ব্যাংকে আমানত বৈচিত্র্যকরণের মাধ্যমে ঝুঁকি কমানো এবং সরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে তহবিল পরিচালনার ফলে নিরাপত্তা বাড়বে। বিএসইসির এ উদ্যোগ বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হবে এবং সিএমএসএফ এর কার্যক্রম আরো গতিশীল ও কার্যকর করবে।

এদিকে, বিনিয়োগকারীদের অর্থ সুরক্ষা ও তহবিল পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে সিএমএসএফকে কার্যকর সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে গড়ে তুলতে নতুন আইন প্রণয়ন এবং পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর পুনর্গঠিত বিএসইসি প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে নানা অনিয়ম খুঁজে পায়। এমতাবস্থায় তহবিলের আইনি ভিত্তি শক্ত করা ও কার্যক্রমে শৃঙ্খল রাখতে নতুন আইন প্রণয়নের কাজ চলছে।

জানা গেছে, প্রস্তাবিত আইন কার্যকর হলে সিএমএসএফ সম্পর্কিত সব নিয়ম একীভূত হবে। নতুন সাত সদস্যের বোর্ডের চেয়ারম্যান হবেন বিএসইসির চেয়ারম্যান। সদস্য হিসেবে থাকবেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিব, দুই স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান, আইসিবির চেয়ারম্যান, পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং সিএমএসএফ এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

২০২১ সালের ২২ আগস্ট শেয়ারবাজারের উন্নয়ন ও তারল্য সংকট দূর করতে ২০ হাজার কোটি টাকার ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড গঠন করা হয়।