অর্থনীতি

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ গাজা ও সুদানে কোরবানির গোশত পৌঁছে দেবে মাস্তুল ফাউন্ডেশন

পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে মাস্তুল ফাউন্ডেশন। এ বছরও দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ ফিলিস্তিনের গাজায় অবস্থানরত শরণার্থীদের মাঝে কোরবানির গোশত বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে প্রতিষ্ঠানটি।

মাস্তুল ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, এবারের কোরবানি কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ৫০ হাজার অসহায় ও নিম্নআয়ের পরিবারের কাছে কোরবানির গোশত পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে তারা। দেশের পাশাপাশি যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের গাজায় ক্ষতিগ্রস্ত শরণার্থী পরিবারগুলোর মাঝেও কোরবানির গোশত বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ঢাকাসহ দেশের প্রত্যন্ত উপকূলীয় ও বিভিন্ন দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রতি বছরের মতো এবারও শরিয়াহ মোতাবেক কোরবানি সম্পন্ন করে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে গোশত সংরক্ষণ ও বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

মাস্তুল ফাউন্ডেশনের চিফ অপারেটিং অফিসার ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, “ঈদুল আযহার মূল শিক্ষা হচ্ছে ত্যাগ ও মানবতার চর্চা। সমাজের এমন অনেক পরিবার আছে, যাদের জন্য কোরবানির ঈদ মানেই বছরের একমাত্র সুযোগ একটু ভালো খাবার খাওয়ার। আমরা চাই, ঈদের আনন্দ যেন শুধু সামর্থ্যবানদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং প্রতিটি পরিবার আনন্দ ও সম্মানের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “দেশের বিভিন্ন দুর্যোগপ্রবণ ও পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের মানুষের কাছে কোরবানির গোশত পৌঁছে দিতে আমরা কাজ করছি। পাশাপাশি গাজার সংকটাপন্ন মানুষের জন্যও আমাদের এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।”

প্রতিষ্ঠানের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার আবু মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, “প্রতিবছরের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা দেখেছি, কোরবানির এই সহায়তা হাজারো পরিবারের ঈদের আনন্দকে অর্থবহ করে তোলে। তাই এবার আরও বড় পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়।” 

তিনি আরও বলেন, কোরবানি শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এটি সামাজিক দায়িত্ববোধেরও প্রতীক। তিনি দেশের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষদের এই মানবিক উদ্যোগে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

মাস্তুল ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, কোরবানির তিন দিনব্যাপী এই কার্যক্রমে স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে গোশত বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত শিশু, এতিম ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের পরিবারকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।