অর্থনীতি

ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিতে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি

ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির উদ্যোগে এবং গাজীপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সহযোগিতায় ফ্যাক্টরি কর্মীদের সন্তানদের জন্য এক বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

সোমবার (১৮ মে) সকাল ১০ টা থেকে ওয়ালটন ফ্যাক্টরি প্রাঙ্গণে এই টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়, যা বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে।

ফ্যাক্টরি সূত্রে জানা যায়, যেসব কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানের বয়স ৫ বছরের কম এবং যারা এখনো হাম-রুবেলার টিকা গ্রহণ করেনি, মূলত তাদের জন্যই এই স্বাস্থ্যসেবামূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়। কর্মীদের সন্তানদের সুরক্ষায় এবং সরকারি টিকাদান লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ এই বিশেষ ক্যাম্পেইনের আয়োজন করে।

টিকা প্রদানের সুবিধার্থে ফ্যাক্টরি প্রাঙ্গণে দুইটি নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা হয়। স্থান ১: ব্লক-এ, বিল্ডিং-১ এর গ্রাউন্ড ফ্লোর। স্থান ২: ব্লক-বি, কমপ্রেসর বিল্ডিং এর গ্রাউন্ড ফ্লোর (এইচআর পয়েন্টের সামনে)।

নির্ধারিত সময়ে কর্মীদের নিজ নিজ সন্তানদের নিয়ে এসে অত্যন্ত শৃঙ্খলার সাথে টিকা গ্রহণ করতে দেখা গেছে। গাজীপুরের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের একটি দক্ষ মেডিকেল টিম এই টিকাদান কার্যক্রমে সরাসরি সহযোগিতা প্রদান করে।

কর্মসূচিতে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, “আমাদের ফ্যাক্টরির কর্মীরাই ওয়ালটন পরিবারের মূল চালিকাশক্তি। তাদের এবং তাদের পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সরকারি টিকাদান কর্মসূচির সাথে সংহতি প্রকাশ করে আমরা এই ক্যাম্পেইনের আয়োজন করেছি, যেন আমাদের কোনো কর্মীর ৫ বছরের কম বয়সী শিশু এই জরুরি হাম-রুবেলার টিকা থেকে বঞ্চিত না হয়। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে সকাল থেকেই কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের সন্তানদের নিয়ে আসছেন। আগামীতেও কর্মীদের কল্যাণে আমাদের এই ধরনের স্বাস্থ্য সেবামূলক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।”

গাজীপুর সিভিল সার্জন অফিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তা তার বক্তব্যে বলেন, “দেশ থেকে হাম ও রুবেলা দূর করতে সরকারি টিকাদান কর্মসূচিকে সফল করতে ওয়ালটনের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সাধারণ কর্মজীবী মায়েরা অনেক সময় কাজের ব্যস্ততায় টিকাদান কেন্দ্রে যাওয়ার সময় পান না। কারখানার ভেতরেই এমন চমৎকার ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করে দেওয়ায় বিপুলসংখ্যক শিশুকে এক ছাতার নিচে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে।অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোও যদি ওয়ালটনের মতো এভাবে এগিয়ে আসে, তবে শতভাগ শিশুর টিকাদান নিশ্চিত করা অনেক সহজ হবে।”

ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ জানায়, কর্মীদের স্বাস্থ্য ও পারিবারিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তারা সব সময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকারি স্বাস্থ্য নীতিমালার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে আগামীতেও এই ধরনের কল্যাণমূলক ও স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির ম্যানেজিং ডিরেক্টর এর বিজনেস কো-অর্ডিনেটর প্রতিক কুমার মোদক, কোম্পানি চেয়ারম্যানের সহকারী বিজনেস কো-অর্ডিনেটর মো. এনামুল হক, অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর এর ডেপুটি সেলিম রাজা রাসেল, প্রশাসন বিভাগের প্রধান তানভীর আহমেদ, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান মো. কাউসার উদ্দীন চৌধুরি, এনভায়রনমেন্ট, হেলথ অ্যান্ড সেইফটি (ইএইচএস) বিভাগের প্রধান মো. মোস্তাফিজুর রহমান রাজু, সিকিউরিটি বিভাগের প্রধান মেজর (অব.) মামুন এবং মেডিক্যাল সেন্টারের ইনচার্জ ডা. সাজ্জাদ হোসেন লেলিনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।