পবিত্র ঈদুল আজহার ত্যাগ, সহমর্মিতা ও মানবতার বার্তা ধারণ করে এবারও দেশ-বিদেশের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে মাস্তুল ফাউন্ডেশন। বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা এবং সংকটময় সুদানের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ কোরবানি সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।
২০২৬ সালের ২৮ মে থেকে ঈদের তৃতীয় দিন পর্যন্ত পরিচালিত এই কার্যক্রমের আওতায় বাংলাদেশ, গাজা ও সুদানে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজাবাসী এবং সুদানের চরম মানবিক সংকটে থাকা নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিশেষ মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে মাস্তুল ফাউন্ডেশন। পবিত্র ঈদুল আজহায় মজলুম এসব মানুষের কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে এবং তাদের মুখে হাসি ফোটাতে সুদূর এই অঞ্চলগুলোতে কুরবানির মাংস ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য আশ্রয়কেন্দ্রে মাংস বিতরণ করা হয়েছে, যার মধ্যে আছে গাজার জাবালিয়া ক্যাম্প, রাফাহ ক্যাম্প, খান ইউনিস ক্যাম্প, নুসেইরাত ক্যাম্প, দেইর আল-বালাহ ক্যাম্প এবং মিশর সীমান্তবর্তী আল-আরিশ অস্থায়ী ক্যাম্প। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে প্রকৃত অসহায় মানুষের হাতে কোরবানির এই আমানত পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির অফিসিয়াল পেজে নিয়মিতভাবে গাজায় পরিচালিত কোরবানি ও ত্রাণ কার্যক্রমের সরাসরি চিত্র প্রকাশ করা হচ্ছে, যেখানে উপকারভোগীদের মাঝে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার বিভিন্ন মুহূর্ত তুলে ধরা হয়েছে।
দেশের ভেতরেও রাজধানী ঢাকাসহ ৩৬টি জেলায় পরিচালিত হচ্ছে কোরবানি কার্যক্রম। দেশের বিভিন্ন অবহেলিত, দুর্গম ও দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চল, চরাঞ্চল ও প্রত্যন্ত এলাকায় পরিচালিত হচ্ছে এই কোরবানি কার্যক্রম। পাশাপাশি এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম, মাদ্রাসা এবং বন্যাকবলিত এলাকার অসহায় পরিবারগুলোকেও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এবারের কার্যক্রমে ঢাকাসহ দেশের ৩৬টি জেলায় কোরবানি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কক্সবাজার, কিশোরগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, কুমিল্লা, খুলনা, চট্টগ্রাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট, টাঙ্গাইল, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নাটোর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, ফরিদপুর, ফেনী, বগুড়া, বরগুনা, বরিশাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ময়মনসিংহ, যশোর, রংপুর, রাজশাহী, রাজবাড়ী, লক্ষ্মীপুর, লালমনিরহাট, শেরপুর, সাতক্ষীরা ও সিলেটসহ বিভিন্ন অঞ্চল।
মাস্তুল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক কাজী রিয়াজ রহমান বলেছেন, “আমাদের সকল প্রচেষ্টা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য। কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা হলো- ত্যাগের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। আমরা বিশ্বাস করি, পৃথিবীর যেখানেই মানুষ ক্ষুধা, যুদ্ধ বা সংকটে ভুগুক না কেন, মানবিক সহায়তা সেখানে পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। এবারের উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশ, গাজা ও সুদানের হাজারো পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার চেষ্টা করেছি।”
তিনি আরো বলেন, “মানবিক সহায়তা শুধু একটি মৌসুমি উদ্যোগ নয়; এটি একটি চলমান দায়িত্ববোধ। তাই, কোরবানির কার্যক্রমের পাশাপাশি আমরা গাজার এতিম শিশুদের শিক্ষা, বিধবা নারীদের সহায়তা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন নিয়েও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় কাজ করছি।”
মানবিকতা ও সহমর্মিতার এই উদ্যোগের মাধ্যমে মাস্তুল ফাউন্ডেশন আবারও প্রমাণ করেছে—ঈদের আনন্দের প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত আছে সবার সঙ্গে তা ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই।