পুঁজিবাজারে অতীতের অনিয়ম, কারসাজি ও বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির ঘটনাগুলো নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমআইএ)। শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর পুরানা পল্টনে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) এর হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি এস. এম. ইকবাল হোসেন লিখিত বক্তব্যে এসব দাবি জানান।
লিখিত বক্তব্যে সরকারের কাছে সাতটি প্রত্যাশার কথা তুলে ধরা হয়েছে। সেগুলো হলো-পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট অতীতের অনিয়ম ও ব্যর্থতার নিরপেক্ষ তদন্ত, বিগত সময়ে পুঁজিবাজারে সংঘটিত অনিয়ম, কারসাজি, দুর্বল তদারকি, নীতিগত ব্যর্থতা এবং বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির প্রকৃত কারণ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাজার কারসাজি, ইনসাইডার ট্রেডিং, তথ্য গোপন, প্রতারণা এবং বিনিয়োগকারী ক্ষতির জন্য দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ক্ষুদ্র ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের ক্ষতি বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ পুনর্বাসন, সুরক্ষা ও সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। বিএসইসি, স্টক এক্সচেঞ্জ, তালিকাভুক্ত কোম্পানি এবং বাজার সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
বিএসইসির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ও কমিশনের কাছেও বেশ কিছু দাবি করেছে বিসিএমআইএ। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে- বিতর্কিত মার্জিন লোন নীতিমালা-২০২৫ এবং মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা-২০২৫ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় পুনর্বিবেচনা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের আগ পর্যন্ত স্থগিত রাখা। বিনিয়োগকারী সংগঠন, বাজার অংশীজন এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় ও সংলাপের ব্যবস্থা করতে হবে। মার্জার প্রক্রিয়ায় কার্যত শেয়ারশূন্য হয়ে পড়া বিনিয়োগকারীদের শেয়ার অথবা সমমূল্য ফেরত প্রদানের উদ্যোগ নিতে হবে। ভবিষ্যতে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের একীভূতকরণে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। বাজার কারসাজি, ইনসাইডার, ট্রেডিং, অস্বাভাবিক মূল্য প্রভাবিত করণ এবং প্রতারনা মূলক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।
এছাড়া তালিকাভুক্ত কোম্পানির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, দুর্বল ও লোকসানি কোম্পানির পুনর্গঠন, শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার সংরক্ষণ, বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ, নতুন কমিশনের অগ্রাধিকারভিত্তিক সংস্কার কার্যক্রম, বাজার স্থিতিশীলতা, অনিয়ম দমন এবং বিনিয়োগকারী সুরক্ষার বিষয়ে ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে সংগঠনটির পক্ষ থেকে।