অর্থনীতি

ওয়ালটনে জমকালো আয়োজনে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন 

গত ৫ জুন ছিল বিশ্ব পরিবেশ দিবস। ২০২৬ সালে বিশ্ব পরিবেশ দিবসের মূল বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য হলো—Now For Climate। জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির মূল ভাবনার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাংলাদেশে এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘প্রকৃতি মাধ্যমে অনুপ্রেরণা। জলবায়ুর জন্য, আমাদের ভবিষ্যতের জন্য।’ 

বৃক্ষ রোপণ, বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আইডিয়া শেয়ারিং আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে দিয়ে বৈশ্বিক ও জাতীয় চেতনাকে সামনে রেখে দেশের ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তি পণ্যের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসিতে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও নানা কর্মসূচির মাধ্যমে জমকালো আয়োজনে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। 

মাসব্যাপী নানা আয়োজনে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির এনভায়রনমেন্ট, হেল্থ অ্যান্ড সেফটি (ইএইচএস) বিভাগের উদ্যোগে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন করা হয়। 

গত ১৯ মে, ২০২৬ থেকে গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন হেড কোয়ার্টারে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন কার্যক্রম শুরু হয়। স্থানীয় বিশাইদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পালিত হয়েছে কমিউনিটি এওয়ার্নেস প্রোগ্রাম, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও জীববৈচিত্র্য বিষয়ের ওপর আয়োজিত বিশেষ কুইজ প্রতিযোগিতা। 

পরবর্তী সময়ে ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ওয়ালটন হেড কোয়ার্টার্সের আশপাশের এলাকা থেকে প্লাস্টিক সংগ্রহ ও রিসাইকেল এবং স্থানীয়দের সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ ও প্লাস্টিকদূষণ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

ওয়ালটন হেড কোয়ার্টারসে বর্ণাঢ্য র‍্যালিও করা হয়েছে। ব্যানার, ফেস্টুন এবং পরিবেশবিষয়ক স্লোগানসম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা র‍্যালিতে অংশ নেন। র‍্যালি শেষে কারখানার বিভিন্ন উৎপাদন ব্লকে পরিবেশ সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ও ক্যাম্পেইন করা হয়। 

র‍্যালিতে অংশ নেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. ইউসুফ আলী, ইএইচএস বিভাগের প্রধান মো. মোস্তাফিজুর রহমান রাজুসহ হেড কোয়ার্টারসের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। 

এর পর পরিবেশ রক্ষায় করণীয় ও ওয়ালটনের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগসহ নানা বিষয়ে আলোচনা সভা হয়। পরিবেশ সুরক্ষা, টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা ও সাধারণ কর্মচারীরা অংশ নেন। 

র‍্যালি শেষে হেড কোয়ার্টার প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কারখানা প্রাঙ্গণে একটি ফলজ ও একটি ঔষধি গাছের চারা রোপণ করে কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। 

একইসঙ্গে ঘোষণা করা হয় যে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কারখানার চারপাশের খালি জায়গা এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন অঞ্চলে এ বছর রেকর্ড সংখ্যক বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করা হবে।

ওয়ালটনের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর, মো. ইউসুফ আলী বলেন, “ওয়ালটন কেবল প্রযুক্তি পণ্য উৎপাদনই করে না, বরং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় শুরু থেকেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কারখানা প্রাঙ্গণে ক্ষতিকারক রাসায়নিকের সঠিক ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য শোধন এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর জন্য আধুনিক পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের বৈশ্বিক স্লোগান Now For Climate-কে ধারণ করে গ্রিন ফ্যাক্টরি বা সবুজ শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার এই ধারা আরো জোরদার করা হবে।”

ইএইচএস বিভাগের প্রধান মো. মোস্তাফিজুর রহমান রাজু বলেন, “আমাদের শিল্পাঞ্চলে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব রোধ করতে আমরা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড কঠোরভাবে মেনে চলছি। ক্ষতিকারক রাসায়নিকের নিরাপদ ব্যবস্থাপনা, তরল বর্জ্য শোধনাগারের (ETP) সার্বক্ষণিক কার্যকারিতা এবং শতভাগ প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য করার প্রক্রিয়া আমরা নিশ্চিত করেছি। আজকের এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং সচেতনতা ক্যাম্পেইন আমাদের সেই ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই অংশ। প্রতিটি কর্মীকে পরিবেশ সুরক্ষায় একজন অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।”

রেফ্রিজারেটর উৎপাদন বিভাগের প্রধান মো. নাসির উদ্দীন, মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান মো. কাউসার উদ্দীন চৌধুরী, প্রশাসন বিভাগের প্রধান তানভীর আহম্মেদ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। 

পরে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য এবং আইডিয়া প্রদানে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সকলের মাঝে লাইফ সেভিং কার্ড এবং গাছের চারা বিতরণের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়। 

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন— ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি’র এএমডি ডেপুটি সেলিম রাজা রাসেল, টিভি উৎপাদন বিভাগের প্রধান কাজি মো. হাসিবুল হক, মেটাল কাস্টিং ইনচার্জ কাজি এস এম ফয়সাল, মেডিকেল ইনচার্জ ডা. মো. সাজ্জাদ হোসেন লেলিন, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের মো. মনিরুজ্জাম, মো. আসলাম হোসেন, ইএইচএস বিভাগের মো. মাহফুজ হোসেন, মো. তাজমির হাসান, মো. রায়হান, মো. ইশাদুল ইসলাম এবং মো. রফিকুল ইসলামসহ অন্য কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানের সার্বিক সমন্বয় করে ওয়ালটন হেডকোয়ার্টার্সের ইএইচএস টিম।