২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং অর্থনৈতিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করেন তিনি।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সংসদ কক্ষে প্রবেশ করেন অর্থমন্ত্রী। পরে স্পিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাজেট উপস্থাপনের জন্য অর্থমন্ত্রীকে অনুমতি দেন।
বাজেট বক্তৃতার শুরুতে অর্থমন্ত্রী বলেন, “দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আবার গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপির নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়েছে।”
তিনি বলেন, “সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি প্রথম বাজেট।”
বাজেট বক্তৃতার আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মদানকারী সব শহীদকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একইসঙ্গে গুম, খুন, হামলা-মামলা ও গুলিবর্ষণের শিকার আহত যোদ্ধাদের প্রতিও সম্মান জানান।
তিনি বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সবসময় জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিগত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধেও বিএনপি নেতৃত্ব দিয়েছে।”
অর্থমন্ত্রী বলেন, “২০১৬ সালের ‘ভিশন ২০৩০’, ২০২২ সালের রাষ্ট্র মেরামতের ২৭ দফা এবং ২০২৩ সালের যুগপৎ আন্দোলনের ৩১ দফার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনই ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তি তৈরি করেছে।”
বাজেট বক্তৃতায় আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র সংস্কার, মেরামত ও রূপান্তরের ৩১ দফার ধারাবাহিকতায় বিএনপি গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে আরো বিস্তৃত করে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ প্রণয়ন করেছে। সরকার ইতোমধ্যে জাতির সামনে ওই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।”
রাজনৈতিক সংস্কারের পাশাপাশি অর্থনৈতিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, “অন্তর্ভুক্তিমূলক, জবাবদিহিমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এবং মানবিক সামাজিক-সাংস্কৃতিক সম্পর্ক গড়ে তোলা ছাড়া রাজনৈতিক সংস্কারের সুফল টেকসই হবে না। মানুষের জন্য নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করাই এই সরকারের লক্ষ্য।”