মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল, এলএনজি ও সারের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের ১০ দিনের মাথায় মধ্যপ্রাচ্য সংকট শুরু হয়, যা অর্থনীতিতে আকস্মিক ঝুঁকি তৈরি করে। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার প্রথম ধাক্কা এসে লাগে জ্বালানি খাতে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেল, এলএনজি ও সারের মূল্যবৃদ্ধির ফলে বিদ্যুৎ, কৃষি, পরিবহন ও শিল্পে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি ও ভর্তুকির চাপও বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য বাংলাদেশের প্রবাসী জনশক্তির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। তাই ওই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার কারণে কর্মসংস্থান ও প্রবাস আয়প্রবাহের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মধ্যপ্রাচ্য সংকট শুরুর পর ডিজেলের আন্তর্জাতিক দাম, এলএনজির স্পট মূল্য এবং ইউরিয়া সারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ববাজারে পরিশোধিত ডিজেলের গড় এফওবি মূল্য ছিল ব্যারেলপ্রতি ৮৬ মার্কিন ডলার। মধ্যপ্রাচ্য সংকট শুরু হওয়ার পর এক পর্যায়ে গত এপ্রিল মাসে তা বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ২৮৫ মার্কিন ডলারে পৌঁছে।
তিনি আরও জানান, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) স্পট মার্কেটে যুদ্ধ-পূর্ব সময়ে প্রতি এমএমবিটিইউয়ের ক্রয়মূল্য ছিল প্রায় ১০ মার্কিন ডলার, যা গত এপ্রিল মাসে বেড়ে ২৮ দশমিক ২৮ মার্কিন ডলারে পৌঁছায়। পরবর্তীতে মূল্য কিছুটা কমলেও বর্তমানে স্পট মার্কেটে বর্ধিত দামেই এলএনজি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে ইউরিয়া সারের প্রতি মেট্রিক টনের এফওবি মূল্য ৪২২ মার্কিন ডলার থেকে প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৮৫০ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। এই বাড়তি মূল্য আমদানি-নির্ভর অর্থনীতির জন্য তাৎক্ষণিক আর্থিক চাপ তৈরি করেছে।