তৈরীপোশাক শিল্পের ন্যায় শতভাগ রপ্তানিমুখী লেদারগুডস ও ফুটওয়্যার শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং টাওয়েল, লিলেন ও হোমটেক্সটাইল শিল্প প্রতিষ্ঠানের জেনারেল বন্ডের মেয়াদ এক বছরের স্থলে তিন বছর করার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকাল ৩টায় জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশকালে তিনি এ প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন তিনি। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এ বাজেট উপস্থাপন করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‘ব্যবসা সহজীকরণের উদ্দেশ্যে শতভাগ রপ্তানিমুখী কমপ্লিট পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিবছর বন্ডের অডিটের বাধ্যবাধকতা রহিত করার প্রস্তাব করছি। তৈরীপোশাক শিল্পের ন্যায় শতভাগ রপ্তানিমুখী লেদারগুডস ও ফুটওয়্যার শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং টাওয়েল, লিলেন ও হোমটেক্সটাইল শিল্প প্রতিষ্ঠানের জেনারেল বন্ডের মেয়াদ এক বছরের স্থলে তিন বছর করার প্রস্তাব করছি।’’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে প্রথম তৈরীপোশাক খাতে কাস্টমস বন্ড প্রথা এবং ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি'র ভিত্তিতে শুল্ক মুক্তভাবে কাঁচামাল আমদানি ব্যবস্থা চালু করেন। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকখাতের বিকাশ ও প্রসারে বন্ডেড ওয়্যারহাউস ব্যবস্থা এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করলেও অন্যান্য সম্ভাবনাময় রপ্তানিমুখী খাত নানাবিধ কারণে এ ব্যবস্থার সুযোগ গ্রহণ করতে পারেনি। এ কারণে তৈরীপোশাক খাতের পাশাপাশি অন্যান্য সকল রপ্তানিমুখী খাতের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যমান বন্ড সংক্রান্ত বিধি-বিধান সংশোধন করার প্রস্তাব করছি, যাতে সকল খাত বন্ড সুবিধায় তাদের কাঁচামাল আমদানি এবং তৈরি পণ্য রপ্তানি করতে পারে।’’
তিনি বলেন, ‘‘ব্যাক টু ব্যাক এলসির পাশাপাশি লোকাল এলসির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রায় রপ্তানিমুখি শিল্পে পণ্য সরবরাহকেও প্রচ্ছন্ন রপ্তানি হিসাবে গণ্য করার বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে। আপিল দায়ের না করেও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ দিয়ে সহজে আয়কর সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির আওতা আরো বিস্তৃত করার প্রস্তাব করছি।’’
এটি স্বাধীন বাংলাদেশের ৫৫তম বাজেট।