অর্থনীতি

বৈদ্যুতিক যানবাহনে বড় শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা

বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) উৎপাদন উৎসাহিত করতে স্থানীয়ভাবে সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য যন্ত্রাংশ ও উপকরণ আমদানিতে ৩ শতাংশ আমদানি শুল্ক ছাড়া বাকি সব শুল্ক মওকুফের প্রস্তাব করা হয়েছে। তুলনামূলক কম মূল্য সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক রেখে অন্যান্য শুল্ক-কর অব্যাহতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই প্রস্তাব রাখেন।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী পরিবহনে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে বিদ্যমান সব ধরনের শুল্ক-কর অব্যাহতি এবং অন্যান্য ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাকের ক্ষেত্রে ভ্যাট ছাড়া বাকি সব শুল্ক-কর ছাড়ের সুবিধা ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল রাখা হবে।

বর্তমানে বৈদ্যুতিক গাড়ি বা ইভি আমদানিতে মোট করভার প্রায় ৯৩ শতাংশ। বাজেটে এই ভার লাঘব করা হয়েছে। ২৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে ৬৪ শতাংশ এবং ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের গাড়ির ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ কর নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

স্থানীয় ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাক উৎপাদন শিল্পের কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানিতেও বিশেষ কর-সুবিধার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এসব রেয়াতি সুবিধা ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে।

এ ছাড়া দেশীয় ই-বাইক উৎপাদন ও সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানগুলোকেও উপকরণ আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এদিকে, ইলেকট্রিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে বিআরটিএতে নিবন্ধন ও নবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ২ লাখ টাকার অগ্রিম আয়কর উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোরও প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ইলেকট্রিক গাড়ির মোটর সক্ষমতা (কিলোওয়াট) অনুযায়ী অগ্রিম আয়কর ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার মধ্যে নির্ধারণ করা হবে। ২০০ কিলোওয়াট পর্যন্ত গাড়ির জন্য ২৫ হাজার টাকা, ৩০০ কিলোওয়াট পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকা, ৪০০ কিলোওয়াট পর্যন্ত ৭৫ হাজার টাকা এবং ৪০০ কিলোওয়াটের বেশি সক্ষমতার গাড়ির জন্য ১ লাখ টাকা অগ্রিম আয়কর প্রস্তাব করা হয়েছে।